স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বাজারে হঠাৎ তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের; বিশেষ করে দোকানগুলোতে মিলছে না সয়াবিন তেলের বোতল। দোকানিরা বলছে— ‘তেল দিচ্ছে না ডিলাররা’। এই সুযোগে খোলা সয়াবিন তেলই তারা বিক্রি করছেন সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে। এতে নিদারুণ ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ঢাকার কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
বর্তমানে সরকার নির্ধারিত এক লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা ও পাম তেলের মূল্য ১৬৪ টাকা। তবে বাজারে খোলা সয়াবিন ২০০ থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর পাম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলাররা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থা মাসখানেকের বেশি সময় ধরে চললেও গত তিন-চারদিন ধরে একেবারে অর্ডার নেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন।
মোহাম্মদপুর কাচাবাজারের আকরাম নামের এক দোকানি বলেন, তেলের অর্ডার নিচ্ছে না কোম্পানি। কোনো কোনো কোম্পানি বলছে, তেল নিতে হলে সঙ্গে অন্য পণ্য নিতে হবে। আমরা বিভিন্ন পাইকারি দোকান থেকে তেল এনে বিক্রি করছি।
তিনি বলেন, তেল না থাকলে ক্রেতারা অন্যান্য পণ্যও নিতে চায় না। রেগুলার ক্রেতা ফিরে যায়। বেচাবিক্রি কমে যায়। যে কারণে বেশি টাকা দিয়ে পাইকারি বাজার থেকে তেল এনে বিক্রি করছি।
বলতে গেলে গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া সিন্ডিকেট-নিয়ন্ত্রিত অস্থিরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ রয়েছে ৫–৬টি কোম্পানির বিরুদ্ধে। বাজার থেকে সয়াবিন তেলের বোতল প্রায় উধাও হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩৫ টাকা বাড়িয়ে ২১০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার দাম বাড়ালেও থামেনি তাদের কারসাজি। এবার ফের লিটারে ১২ টাকা বাড়াতে নির্বাচিত সরকারকে চিঠি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছে মালিক সমিতি। সরকার অনুমোদন না দিলেও নিজেরাই নতুন দাম নির্ধারণ করে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে নতুন মূল্য কার্যকর না হলে বাজারে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে মিলমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। চিঠিতে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া— ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৯৫৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাম তেলের দাম ১৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭৭ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ মূল্য সরকারের অনুমতি পাওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার থেকে তারা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব