রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাকে চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বড় সিটি করপোরেশনগুলোতেও এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়ে ১১ মে পর্যন্ত চলবে।
তিনি বলেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা প্রদান করলে এটি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।” এ ক্ষেত্রে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। অধিকাংশ শিশু টিকা পেলে সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ কমে যাবে এবং পুরো সমাজ সুরক্ষিত থাকবে।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিলে অপপ্রচার মোকাবিলা করা সহজ হবে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, সরকার মানুষের কল্যাণে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ডিএনসিসির নিজস্ব কোনো জেনারেল হাসপাতাল না থাকলেও মহাখালীতে একটি স্থাপনা রয়েছে, যা বর্তমানে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেটিকে পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে কিছু অব্যবস্থাপনা থাকলেও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা গেলে নগরবাসীর জন্য সহজে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম