| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আমেরিকা-ইরান বৈঠকের মাঝেই সৌদি আরবে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান,নতুন উত্তেজনা

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১২, ২০২৬ ইং | ১৫:৩৪:২৬:অপরাহ্ন  |  ৪৯০৩৩ বার পঠিত
আমেরিকা-ইরান বৈঠকের মাঝেই সৌদি আরবে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান,নতুন উত্তেজনা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর মধ্যে সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে সৌদি ভূখণ্ডে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে ইসলামাবাদ। ঘটনাটি ঘটেছে এমন সময়, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসেছিল। ফলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের কিং আবদুলআজিজ বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। এটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

সেই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে অন্য দেশ সেটিকে নিজেদের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করবে। ওই সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-এর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।

সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেয়। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান একদিকে দুই পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও নিতে চেয়েছে। তাদের উদ্যোগেই ইসলামাবাদে বৈঠকে বসে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান পাঠানোয় প্রশ্ন উঠেছে রিয়াদ কি ভবিষ্যতে এসব বিমান ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে পারে? যদিও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসাহাক দার দাবি করেছেন, তিনি ইরানকে আশ্বস্ত করেছেন যে সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেহরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হবে না।

অন্যদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে চেয়েছে,সৌদি আরবের মাটি যেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে ব্যবহার না হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ মূলত প্রতীকী। দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইমতিয়াজ গুল বলেছেন, কয়েকটি যুদ্ধবিমান সামরিকভাবে বড় পরিবর্তন আনবে না, তবে এটি একটি কৌশলগত বার্তা ইসলামাবাদ তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে মার্চ মাসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান াামসম মুনির রিয়াদ সফর করে ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া বৈঠকের কয়েক দিন আগে সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে ফোনালাপে সব পরিস্থিতিতে পাশে থাকার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও সৌদি আরব পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশটিতে প্রায় ২৫ লাখ পাকিস্তানি কর্মরত রয়েছেন, যা পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় উৎস। পাশাপাশি, চুক্তির অংশ হিসেবে পাকিস্তানে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথাও জানিয়েছে রিয়াদ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপে পাকিস্তান একদিকে সৌদির প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে, অন্যদিকে ইরানকে পরোক্ষ বার্তা দিচ্ছে। তবে এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪