রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকা আবারও বায়ুদূষণের চাপে ‘অস্বাস্থ্যকর’ শহরের তালিকায় উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর হিসেবে পরিচিত এই মেগাসিটি আজও সেই অবস্থান থেকে বের হতে পারেনি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা IQAir–এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ছিল ১৪৪। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশর রাজধানী।
বায়ুমানের এই মাত্রা শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় এই ধরনের বায়ুতে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই, যার AQI স্কোর ১৯৮। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তানের লাহোর (১৮৫), তৃতীয় সেনেগালের রাজধানী ডাকার (১৭৩)। চতুর্থ অবস্থানে ভারতের দিল্লি (১৬৭) এবং পঞ্চমে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৫৮)।
বায়ুমান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, ০–৫০ ‘ভালো’, ৫১–১০০ ‘মাঝারি’, ১০১–১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১–২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১–৩০০ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০-এর বেশি হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্পকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলো এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন বায়ুদূষণের প্রধান কারণ। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে দীর্ঘমেয়াদি দূষণ নিয়ন্ত্রণে না আনলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
পরিবেশবিদরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, নদী দখল, দূষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের অবক্ষয় সামগ্রিক পরিবেশ ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে, যা পরোক্ষভাবে বায়ুর মানের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বায়ুদূষণ বেশি থাকলে শিশু ও বয়স্কদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম