| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ ছায়ানটের বর্ষবরণ

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ইং | ১০:১২:৫৮:পূর্বাহ্ন  |  ৪৮১৫৪ বার পঠিত
‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ ছায়ানটের বর্ষবরণ

স্টাফ রিপোর্টার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’—এই মানবিক চেতনার মন্ত্রকে ধারণ করে রাজধানীর রমনা বটমূল-এ উদযাপিত হলো ছায়ানট-এর বর্ষবরণ ১৪৩৩। ভোরের স্নিগ্ধ আলো ও সুরের মূর্ছনায় নতুন বছরকে স্বাগত জানান শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও হাজারো দর্শক-শ্রোতা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সূর্যোদয়ের আগেই উৎসবের আবহে মুখর হয়ে ওঠে রমনা প্রাঙ্গণ। সম্মিলিত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রভাতী আয়োজন। আজকের আয়োজনে মোট ২২টি গান থাকছে। এর মধ্যে ৮টি সম্মেলক গান, একক কণ্ঠের গান ১৪টি। পাঠ থাকছে দুটি।

এবারের আয়োজনজুড়ে ছিল সুর, কবিতা ও আবৃত্তির সমন্বয়ে এক সুসংগঠিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং লালন সাঁই—এই চার ধারার গান ও কবিতার মেলবন্ধনে সাজানো হয় পুরো অনুষ্ঠান।

ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। রমনার বটমূল থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করছে বিটিভি ও দীপ্ত টেলিভিশন এবং প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকমের ওয়েব পোর্টাল। এ ছাড়া ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখা যাচ্ছে। অনুষ্ঠান চলবে প্রায় দুই ঘণ্টা।

দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার এই বটমূলে পয়লা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। এই অনুষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে ভয়ের পরিবেশ থেকে বের হয়ে এসে সংগীতের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়কে তুলে ধরা। পয়লা বৈশাখের এই অনুষ্ঠান কালক্রমে দেশের সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

একক সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন মাকছুরা আখতার অন্তরা, আজিজুর রহমান তুহিন, সেমন্তী মঞ্জরী, বিটু কুমার শীল, খায়রুল আনাম শাকিল ও শারমিন সাথী ইসলাম ময়না। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও খায়রুল আলম সবুজ। লোকজ ধারায় লালন সংগীত পরিবেশন করেন চন্দনা মজুমদার।

সমবেত ও শিশু-কিশোরদের পরিবেশনাও ছিল দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ‘পথে এবার নামো সাথী’ ও ‘সেদিন আর কত দূরে’ গানে উচ্চারিত হয় নতুন দিনের প্রত্যয়, আর শিশুদের কণ্ঠে ‘ডিম পাড়ে হাসে’ যোগ করে প্রাণবন্ত উচ্ছ্বাস।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী মানবতা, সম্প্রীতি ও সাহসের বার্তা তুলে ধরেন। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন।

বাংলা নববর্ষের প্রভাতে এই আয়োজন আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—সংস্কৃতির শক্তিই পারে ভয়কে দূরে সরিয়ে মানুষের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে মুক্তচিন্তা ও উদারতার সাহস।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪