রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেমেছে উৎসবের আমেজ। ঢোল-বাদ্যের তালে আর রঙিন মোটিফের বর্ণিল আয়োজনে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত বৈশাখী শোভাযাত্রা।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল ৮টা থেকেই চারুকলার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন উৎসবপ্রেমীরা।
বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে চারদিকে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। শোভাযাত্রায় প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করছেন। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনা শোভাযাত্রায় ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।
বরাবরের মতো এবারও শোভাযাত্রায় লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তা তুলে ধরা হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণভাবে। বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে তৈরি বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর এবং মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রায় যুক্ত হয়ে তৈরি করেছে নান্দনিক দৃশ্য। এবারের প্রতিপাদ্য অশুভ শক্তির বিনাশ ও কল্যাণময় ভবিষ্যতের প্রত্যাশা।
এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রধান মোটিফ মোরগ, দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অনুষদের খোলা প্রাঙ্গণে আগে থেকেই এসব মোটিফ তৈরির কাজ সম্পন্ন করেন শিক্ষার্থীরা।
লাল ঝুঁটির বিশাল মোরগ, নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে তৈরি কাঠের হাতি, শান্তির প্রতীক পায়রা, বড় দোতারা ও টেপা আকৃতির ঘোড়া শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ছোট ছোট প্রতীকী উপকরণও যুক্ত হয়েছে বর্ণিল এই আয়োজনের সঙ্গে।
এদিকে শোভাযাত্রাকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে মুখোশ পরে প্রবেশ, ব্যাগ বহন, ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুভুজেলা বাঁশির ব্যবহার ও বিক্রিও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে। টিএসসির সামনে স্থাপন করা হয়েছে হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোলরুম ও অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প। এছাড়া দোয়েল চত্বর ও কার্জন হলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ পাবলিক টয়লেট।
নববর্ষ উপলক্ষে চারুকলা অনুষদে আয়োজন করা হয়েছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। চৈত্রসংক্রান্তির দিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বকুলতলায় লোকসংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ‘বাগদত্তা’ ও ‘দেবী সুলতানা’ শীর্ষক যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম