রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের চার সদস্যকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দিয়া আক্তার (কলেজছাত্রী) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে যাত্রাবাড়ী থানার কাজলা-ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। নিহত দিয়া আক্তার স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজ-এর শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদার আবু মুসা নবীউল্লাহ নামের এক ব্যক্তির কাছে দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভোরে তার বাসায় যান। ওই সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে তীব্র উত্তেজনায় রূপ নেয় এবং সংঘর্ষে পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, প্রথমে নবীউল্লাহ ও আবু মুসার মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার এক পর্যায়ে নবীউল্লাহ আবু মুসাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এরপর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আবু মুসা নবীউল্লাহর পরিবারের ওপর চড়াও হন। তিনি নবীউল্লাহর স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন, এতে তার বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। নবীউল্লাহর মেয়ে দিয়া আক্তার এগিয়ে গেলে তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একই ঘটনায় আহত হন নবীউল্লাহর আরেক মেয়ে জয়া এবং ছেলে মুয়াজ। তাদেরও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে এবং তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে এ নির্মম ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এ ধরনের সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম