শ্রীপুর(মাগুরা)প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার রায়নগর গ্রামে ৫'বছরের এক শিশুকন্যা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটির নানী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ করেন। তিনি ওয়ালিয়ার রহমান নামে এক ধর্মীয় শিক্ষকের নামে মামলা করেছেন। পুলিশ ওয়ালিয়ার রহমানকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন।
মামলার বাদী মনোয়ারা বেগম জানান, উপজেলার রায়নগর গ্রামের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম কেন্দ্রের ধর্মীয় শিক্ষক ওয়ালিয়ার রহমান তার ৫'বছর বয়সী নাতনিকে গণশিক্ষা কেন্দ্রে পাঠদানের পাশাপাশি বাড়িতে এসেও প্রাইভেট পড়াতেন। প্রতিদিনের ন্যায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শিক্ষক ওয়ালিয়ার রহমান তার নাতনিকে পড়াতে আসেন।
শিক্ষকের উপর বিশ্বাস রেখে নাতনিকে শিক্ষকের কাছে পড়তে দিয়ে তিনি কিছু কেনাকাটার জন্য পাশ্ববর্তী নাকোল বাজারে যান। বাজার থেকে বাড়িতে ফিরে দেখেন তার নাতনি তেমন কোন কথা বলছে না, শুধুই কান্নাকাটি করছে এবং ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।
একপর্যায়ে অনেক বুঝানোর পর শান্ত হয়ে শিশুটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপকর্মের কথা তাকে খুলে বলে। বিষয়টি তখন এলাকায় ব্যাপক প্রচারও হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবার কোন উপায়ন্তর না পেয়ে গত ২০ এপ্রিল সোমবার ৫' বছরের শিশু ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ এনে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন।
এই মামলার অভিযোগে পুলিশ বুধবার গভীর রাতে শিক্ষক ওয়ালিয়ার রহমানকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানির পর উক্ত শিক্ষককে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
মামলার বাদী আরোও জানান, আসামি ওয়ালিয়ার রহমান জেলে থাকলেও তার পরিবারের লোকজন বাদীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। পরিবারের কোন পরুষ মানুষ বাড়িতে না থাকায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এবিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং মূল আসামি আটকের পর জেল হাজতে রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু