| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কাপাসিয়ায় খামারের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে ফসল

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০২, ২০২৬ ইং | ১৮:২৫:৩৯:অপরাহ্ন  |  ১০৫৮ বার পঠিত
কাপাসিয়ায় খামারের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে ফসল

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় গরু ছাগল ও মোরগের দুটি খামারের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে ফসলী জমি। দীর্ঘদিন যাবত নিজেদের মূল্যবান জমিতে ধান,পাটসহ নানা মৌসুমী ফসল ও শাক-সবজি আবাদ করতে না পেরে এবং বর্জ্যের দুর্গন্ধে বসতবাড়িতে অবস্থান করতে মারাত্মক অসুবিধা ভোগ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

সম্প্রতি এলাকাবাসী এসবের প্রতিকার চেয়ে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শনিবার (২ মে) দুপুরে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে স্থানীয় কৃষকরা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সামনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।   

স্থানীয় কৃষক তারিকুল ইসলাম তামীম জানান, প্রায় আট বছর আগে উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের কামারগাঁও মমিনা বাড়ি এলাকায় আবু জাহিদ নয়ন গরু ছাগল ও মোরগের দুটি খামার পরিচালনা করছেন। একটি খামারে প্রায় শতাধিক গরু ও আশিটি ছাগল, ভেড়া লালন পালন করছেন। অন্য একটি মোরগের খামারে প্রায় সাত হাজার লেয়ার মুরগী লালন পালন করছেন। প্রতিদিন খামার দুটি থেকে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ বিষ্ঠা মোটা প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে পাশ্ববর্তী ফসলী জমিতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয় ৪০ জন কৃষকের  প্রায় ৫০ বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। 

কৃষকরা নষ্ট  হওয়া ধানগাছ কেটে গরুর খর বানানোর জন্য এখানকার পচা পানিতে নেমে সেগুলো কাটতে পারছেন না। দিনমজুররাও এ ধান ক্ষেতগুলোতে নেমে চুলকানি ও খোসপাঁচড়া হওয়ার ফলে কাজ না করে চলে যায়। 

কৃষক মো: সাখাওয়াত হোসেন জানান, এ খামারের  পাশে তার প্রায় দুই বিঘা জমিতে ধানের শীষ গজানোর পর আস্তে আস্তে গাছগুলো পচে যেতে শুরু করে। গত আট বছর ধরে এ জমির পাশাপাশি একটি পুকুরে তিনি মাছ চাষ করতে পারছেন না। 

তাছাড়া আশপাশের বিল থেকে আগে প্রচুর পরিমাণ মাছ ধরে স্থানীয় জনসাধারণ খেতে পারলেও গত আট বছর ধরে তা সম্ভব হচ্ছে না। 

এসব বিষয়ে খামার মালিক ও তার লোকজনের কাছে অভিযোগ করলে তারা বলেন, তাদের খামারের বর্জ্য এভাবে আসবেই। নিজ দায়িত্বে নিজেদের ফসলের ক্ষেত রক্ষা করতে পরামর্শ দেন তারা।

খামারের পাশ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা কৃষক মানসুর হোসেন জানান, খামার দুটির বর্জ্য ধানক্ষেতে প্রবাহিত হলে ধানগাছগুলো অতি মাত্রায় মোটা হয়ে যায়। এর ফলে ধানের ফলন না হয়ে প্রচুর পরিমাণ চিটা হয়। ফলে তাদের কষ্টের ও খরচের আশানুরূপ ফল পান না তারা।

স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য তারিকুল হাসান নাজির (টিটু) জানান, খামারের বর্জ্যে তার বাড়ি সংলগ্ন একটি পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। এর দুর্গন্ধে তারা ও আশপাশের লোকজন বসতবাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না। এর প্রতিকার চেয়ে তারা স্থানীয় ৪০ জন কৃষক বাদী হয়ে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরে গত ২২ এপ্রিল একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ওই খামারের মালিক আবু জাহিদ নয়ন জানান, তার দুটি খামারে অন্তত ত্রিশ জন মানুষের কর্মসংস্থান করা হয়েছে। বর্তমানে খামার দুটি থেকে যে বর্জ্য আশপাশের কৃষি ক্ষেতে যাচ্ছে তা রোধ করার জন্য খামারের ভিতরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। অচিরেই সেটি চালু করে নিজেদের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে আশপাশের চল্লিশটি পরিবারে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। 

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুরের উপ পরিচালক মো: আরেফিন বাদল বলেন, তারা অচিরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন। 

রিপোর্টার্স২৪/মিতু  

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪