কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও তাঁর শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘাতক ফোরকান মিয়ার মরদেহ ৮ দিন পর পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) বিকেল চারটার দিকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড় এলাকার পুরান পদ্মা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মাদ ইলিয়াছ জানায়, দুপুর সোয়া একটার দিকে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। মরদেহটি দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় অনেকটাই বিকৃত ও অর্ধগলিত হয়ে গেছে। মুখমণ্ডল ও আঙুলের অংশ খসে পড়েছে।
নিহতের স্বজনরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছেন উদ্ধার হওয়া মরদেহটি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় চাঞ্চল্যকর ৫ হত্যাকাণ্ডের মূল ঘাতক ফোরকান মিয়ার।
উল্লেখ, গত ৮ মে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে তার ভাড়াটিয়া ফোরকান মিয়া তার স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), মাদরাসা পড়ুয়া বড় মেয়ে মীম খানম (১৫), মেজ মেয়ে উম্মে হাবিবা (৮) ও ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়াকে (২২) হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গোপালগঞ্জের পাইককান্দি এলাকার বাসিন্দা ও নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাৎ মোল্লা ঘটনার দিন রাতেই কাপাসিয়া থানায় ফোরকানকে প্রধান আসামি ও অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
তার আগে গত ১৪ তারিখ বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন, ফোরকান পদ্ধা নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্বহত্যা করেছে ফোরকানের ব্যাবহৃত মোবাইল ও সিসিটিভি ফুটেজ থেকে তারা এ তথ্য দিয়েছিলেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ যোবায়ের ঘটনাস্থলে স্বজনদের মরদেহ দেখিয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে দেহটি ফোরকানেরই। বিষয়টি আরো নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু