| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ধর্ষকদের ৭ দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতে হবে : চসিক মেয়র

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৩, ২০২৬ ইং | ১৮:০০:০১:অপরাহ্ন  |  ৯৪০৬৯ বার পঠিত
ধর্ষকদের ৭ দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতে হবে : চসিক মেয়র

স্টাফ রিপোর্টার: শিশু নির্যাতন ও ধর্ষকদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আইন সংশোধন করে এই ধরনের পাষণ্ডদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার সাহস আর কেউ না পায়।

শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে চমেক হাসপাতালে ধর্ষণচেষ্টার শিকার তিন শিশুকে দেখতে গিয়ে এ প্রতিক্রিয়া জানান চসিক মেয়র।

এ সময় মেয়র বলেন, তিন-চার বছরের মাসুম বাচ্চাদের ফুসলিয়ে, চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কেউ না কেউ নিয়ে যাচ্ছে। এটি একদিকে আমাদের সমাজের তীব্র নৈতিক অবক্ষয়, অন্যদিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০-৩০ টাকা দিয়ে ছোট শিশুদের একা একা দোকানে পাঠানো উচিত নয়, কারণ এই সুযোগেই ওঁত পেতে থাকা অপরাধীরা এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।

হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) তথ্যের বরাত দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত ৮ বছরে চট্টগ্রামে ১২ বছরের নিচে ৪২২টি শিশু নির্যাতনের ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে রিপোর্ট না করায় প্রকৃত সংখ্যা আরও উদ্বেগজনক হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ সময় কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের সুরক্ষায় চট্টগ্রামে একটি বড় কেন্দ্রীয় ডে-কেয়ার সেন্টার করার ঘোষণা দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিটি তৈরি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান।

মেয়র বলেন, মায়েরা যখন দিন-রাত কষ্ট করে অর্থ জোগান দিচ্ছেন, তখন তাদের সন্তানরা অনিরাপদ থাকা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য লজ্জাজনক।

গার্মেন্টস মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এত টাকা ইনভেস্ট করা হলেও একটি ডে-কেয়ার সেন্টার করা তাদের জন্য কোনো বিষয়ই না। বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মেয়র বলেন, গার্মেন্টসগুলোর বিভিন্ন রিকোয়ারমেন্টের (অনুমোদন) ক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার থাকাকে যেন বাধ্যতামূলক শর্ত করা হয়।

গত বছরের বর্ষাকালের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে মেয়র বলেন, হালিশহরে এক গার্মেন্টস কর্মীর সাড়ে তিন বছরের শিশু দেখাশোনার কেউ না থাকায় একা নিচে খেলতে গিয়ে ড্রেনে পড়ে মারা গিয়েছিল। এ ধরনের দুর্ঘটনা ও অপরাধের দায় এড়ানো সমাজের কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

চট্টগ্রামের ১৫টি থানার সুবিধাবঞ্চিত ও কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের সুরক্ষায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি বড় কেন্দ্রীয় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র। নগরের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহায়তায় চসিক এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি জানান।

এদিকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন বলেন, তিনটি শিশুই বর্তমানে সুস্থ আছে এবং স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছে। মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বহন করছে।

শিশুরা বয়সে অত্যন্ত ছোট হওয়ায় ঘটনার ভয়াবহতা পুরোপুরি বুঝতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা যাতে এই মানসিক ট্রমা থেকে দ্রুত বের হয়ে আসতে পারেন, সেজন্য চিকিৎসকেরা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।


রিপোর্টার্স২৪/ ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪