স্টাফ রিপোর্টার: আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তরা আদালতের কাছ থেকে কোনো ধরনের সুবিধা পাবেন না বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি একটি বহুল আলোচিত ও প্রমাণিত ঘটনা। তাই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সম্মানিত আদালত মামলার আসামিদের কোনো ধরনের সুবিধা দেবেন না।
হাসপাতালগুলোর তদারকি জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আগেও বলেছি, হাসপাতালগুলো নিয়মিত পরিদর্শনে আছি। তবে এ ঘটনার পর আমরা আরও বেশি সতর্ক হয়েছি।
গত তিন দিন ধরে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় পরিচালকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভা করেছি। স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে দিন দিন আমাদের নির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর হবে।
এ ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে।
ময়নাতদন্ত ছাড়া ফৌজদারি অপরাধের ভিত্তি কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাধারণত ময়নাতদন্ত না হলে অভিযুক্তরা কিছু সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে নবজাতকদের মায়েদের আবেগঘন পরিস্থিতির কারণে ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করলেও স্বজনরা এতে সম্মতি দেননি। তবে এটি কোনো গোপন ঘটনা নয়। প্রকাশ্য এবং বহুল আলোচিত একটি ঘটনা। তাই আদালত বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কোনো দায় রয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বিষয়ে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়, আরও অনেক সংস্থা সম্পৃক্ত থাকে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও তদারকির বিষয় রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হবে।
এ ধরনের হাসপাতাল কীভাবে অনুমোদন পায় এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালটি অনুমোদনের সময় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেছিল। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে রাজউকের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে রাজউক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করব। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনাকে সামনে রেখে সব হাসপাতালের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, আর গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব