| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ক্যানসার চিকিৎসায় ‘নজিরবিহীন’ ইনজেকশন

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০১, ২০২৬ ইং | ১২:০৯:৫৭:অপরাহ্ন  |  ১০১৭ বার পঠিত
ক্যানসার চিকিৎসায় ‘নজিরবিহীন’ ইনজেকশন

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী এক অগ্রগতির দাবি করেছেন চিকিৎসক ও গবেষকরা। নতুন এক ক্যানসারবিরোধী ইনজেকশন ব্যবহার করে রোগীর শরীরের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করা এবং কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্বের ১১টি দেশে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই ইনজেকশন ব্যবহার করা হয় এমন রোগীদের ওপর, যাদের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছিল বা পূর্ববর্তী চিকিৎসায় কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলাফলে দেখা গেছে, ‘অ্যামিভ্যান্টাম্যাব’ নামের এই ইনজেকশন এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি রোগীর টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করেছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অনেক রোগীর অবস্থার উন্নতি দেখা যায় এবং ১৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যায়।

লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের (আইসিআর) জৈবিক ক্যানসার চিকিৎসাবিষয়ক অধ্যাপক কেভিন হ্যারিংটন বলেন, যেসব রোগীর কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি উভয় চিকিৎসার প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ফলাফল ‘নজিরবিহীন’ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তার মতে, যাদের চিকিৎসার বিকল্প প্রায় শেষ, তাদের জন্য এটি নতুন আশার বার্তা।

রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট অনকোলজিস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা হ্যারিংটন জানান, এই চিকিৎসা সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্রতি বছর হাজার হাজার ক্যানসার রোগী উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যানসার সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি’ (অ্যাসকো)-এর বার্ষিক সভায় এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হবে।

গবেষণায় দেখা যায়, মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ১০২ জন রোগীর ওপর এই ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে ৪৩ জনের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয় বা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়, ২৮ জনের টিউমার আংশিকভাবে সংকুচিত হয় এবং ১৫ জনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নির্মূল হয়।

গবেষকরা জানান, ফুসফুসের ক্যানসারের রোগীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি এই অ্যামিভ্যান্টাম্যাব বর্তমানে প্রায় ৬০টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি ফুসফুস ছাড়াও মলাশয়, মস্তিষ্ক এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের ক্ষেত্রেও কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে।

এই ‘স্মার্ট ইনজেকশন’ তিনভাবে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে। প্রথমত এটি ইজিএফআর নামক প্রোটিনকে বাধা দেয়, যা টিউমার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। দ্বিতীয়ত, এটি এমইটি নামের আরেকটি পথ বন্ধ করে দেয়, যার মাধ্যমে ক্যানসার কোষ চিকিৎসা এড়িয়ে যেতে পারে। তৃতীয়ত, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে।

অন্যান্য চিকিৎসার তুলনায় এই ইনজেকশন শিরায় না দিয়ে ত্বকের নিচে দেওয়া হয়, ফলে চিকিৎসা দ্রুত ও সহজ হয় এবং রোগীকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে হয় না। প্রতি তিন সপ্তাহে একবার এই চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার।

৫৬ বছর বয়সী কার্ল ওয়ালশ, যিনি এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন, জানান চিকিৎসার পর তার জীবন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আগে কথা বলা ও খাওয়ায় সমস্যা হলেও এখন তিনি স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারছেন।

গবেষকরা আরও জানান, কিছু নির্দিষ্ট ধরনের জটিল ক্যানসারের রোগীদের এই ট্রায়ালে অন্তর্ভুক্ত না করা হলেও সামগ্রিক ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের গড় বেঁচে থাকার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আইসিআরের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান হেলিন বলেন, এই গবেষণা প্রমাণ করেছে আধুনিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি কীভাবে সীমিত চিকিৎসা সুযোগ থাকা রোগীদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪