| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যেমন ফলন, তেমন দাম: খুশি মাগুরার লিচু চাষিরা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৪, ২০২৬ ইং | ১৭:৪০:৫১:অপরাহ্ন  |  ১৯৩ বার পঠিত
যেমন ফলন, তেমন দাম: খুশি মাগুরার লিচু চাষিরা

মাগুরা প্রতিনিধি: বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে খুশি মাগুরার লিচু চাষিরা। লিচুগ্রামখ্যাত মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর, ইছাখাদা, খালিমপুর, মিঠাপুর, হাজিপুরসহ অন্তত ২০টি গ্রামে এখন লিচুর ভরা মৌসুম। গাছে গাছে ঝুলছে লাল রঙের পাকা, রসালো ও টসটসে লিচু।

মাগুরা জেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে ইছাখাদায় পৌঁছালেই রাস্তার দু’ধারে চোখে পড়ে সারি সারি লিচু বাগানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। চাষিদের ধারণা, এ অঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার বাগান থেকে এবার ৮০ থেকে ৮৫ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হবে।

চাষিরা জানান, এবারের ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি বাজারেও মিলছে সন্তোষজনক দাম। ফলে তারা বেশ আনন্দিত।

মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর, হাজিপুর ও রাঘবদাইড় ইউনিয়নের ইছাখাদা, মিঠাপুর, গাঙ্গুলিয়া, খালিমপুর, মির্জাপুর, পাকাকাঞ্চনপুর, বীরপুর, রাউতড়া, বামনপুর, আলমখালী, বেরইল, লক্ষ্মীপুর, আলাইপুর ও নড়িহাটিসহ প্রায় ২০টি গ্রামের কৃষক গত দুই দশক ধরে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ করে আসছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যাপারীরা আগাম বাগান কিনে নিয়েছেন। বাগানজুড়ে চলছে লিচু সংগ্রহ, বাছাই ও বাজারজাতকরণের ব্যস্ততা।

ইছাখাদা গ্রামের লিচুচাষি সাইফুল ইসলাম, মুরাদ হোসেনসহ একাধিক চাষি জানান, একসময় এলাকার কৃষকরা ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করলেও তাতে লাভ হতো না। পরে পেঁপে ও পেয়ারার পাশাপাশি লিচু চাষ শুরু করেন। লাভজনক হওয়ায় ধীরে ধীরে পুরো এলাকায় লিচু চাষের বিস্তার ঘটে। বর্তমানে তিন ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই লিচু চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

লিচুচাষি কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, “দুই-তিন সপ্তাহের তীব্র খরার কারণে অনেক লিচু ফেটে যাচ্ছে এবং কিছু লিচুর রং বাদামি হয়ে যাচ্ছে। আমি ১৫-১৬ বিঘা জমিতে লিচু চাষ করেছি। জেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাগানের পরিচর্যা শুরু করি। এ বছর সার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতিদিন নারী শ্রমিকসহ ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের মজুরি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বাগানের লিচু বর্তমানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী, শিবচর, পাঁচবিবিসহ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। তবে মৌসুমের শেষ দিকে চাহিদা কিছুটা কমে গেলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।”

চাষিরা জানান, লিচুর বাগান স্থাপনের প্রথম বছর কিছুটা খরচ হলেও পরবর্তী সময়ে ব্যয় তুলনামূলক কম। ফুল আসার পর নিয়মিত স্প্রে ও পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ অঞ্চলের মাটি লিচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে বোম্বাই, চায়না-৩, মোজাফফর ও স্থানীয় হাজরাপুরী জাতের লিচু চাষ হয়।

মৌসুমের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও আড়তদাররা এসে বাগান কিনে নিচ্ছেন। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ট্রাক লিচু ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৭১ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৮০ হেক্টর, শালিখায় ৪০ হেক্টর, শ্রীপুরে ৩৫ হেক্টর এবং মহম্মদপুরে ২৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। শুধু হাজরাপুর এলাকাতেই ২৮৩ হেক্টর জমিতে লিচু উৎপাদন হয়েছে। সব মিলিয়ে এ বছর শতকোটি টাকারও বেশি লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলন নিশ্চিত করতে রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে জেলার শতাধিক লিচুচাষিকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। তবে সাম্প্রতিক তীব্র তাপদাহে কিছু বাগানের লিচু ফেটে গেছে। এ বিষয়ে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪