| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে তিনটি পরীক্ষার মেশিন দুই মাস ধরে বন্ধ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২১, ২০২৬ ইং | ১৫:২৬:৫০:অপরাহ্ন  |  ৪৩৫ বার পঠিত
ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে তিনটি পরীক্ষার মেশিন দুই মাস ধরে বন্ধ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পরীক্ষা মেশিন প্রায় দুই মাস ধরে অচল থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। যান্ত্রিক ত্রুটি ও প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট সংকটের কারণে একটি বায়োকেমিস্ট্রি মেশিন এবং দুটি হেমাটোলজি অ্যানালাইজার মেশিনে পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বায়োকেমিস্ট্রি মেশিনের মাধ্যমে লিভার ফাংশন টেস্ট (এলএফটি), কিডনি ফাংশন টেস্ট (কেএফটি), রক্তে শর্করার মাত্রা, ইউরিক অ্যাসিড, কোলেস্টেরলসহ ১৫ থেকে ২০ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা হতো। অন্যদিকে হেমাটোলজি অ্যানালাইজার মেশিনে সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তস্বল্পতা, সংক্রমণ, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হতো।

সরকারি হাসপাতালে এসব পরীক্ষা ৫০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে করা গেলেও মেশিনগুলো বন্ধ থাকায় রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে পাঁচ থেকে ১০ গুণ বেশি খরচ করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। অনেকেই অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে পারছেন না।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সদর উপজেলার শাহিনা বেগম বলেন, “ডাক্তার কিডনির পরীক্ষা দিয়েছেন। হাসপাতালে এসে শুনি মেশিন বন্ধ। বাইরে পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়েছে।”

রাণীশংকৈল উপজেলার শাহাবুদ্দিন বলেন, “লিভারের পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে অল্প টাকায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাইরে গিয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা খরচ করতে হয়েছে।”

ঠাকুরগাঁও শহরের দিনমজুর জয়নাল আবেদীন বলেন, “ডাক্তারের দেওয়া সব পরীক্ষা করাতে পারিনি। টাকার অভাবে কিছু পরীক্ষা বাদ দিতে হয়েছে।”

হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের টেকনোলজিস্ট আবদুস সালাম জানান, গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে তিনটি মেশিনই অচল রয়েছে। কোনোটি রিএজেন্ট সংকটে, আবার কোনোটি যন্ত্রাংশের ত্রুটির কারণে চালু করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “যেখানে হাতে সিবিসি পরীক্ষা করতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে হেমাটোলজি অ্যানালাইজার মেশিনে মাত্র দুই মিনিটে নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায়।”

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব ইনচার্জ) ফনিন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, “প্রতিদিন রোগীরা বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য আসছেন। কিন্তু মেশিন বন্ধ থাকায় তাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ক্যালিব্রেশন ও কারিগরি তদারকির অভাবে ছোটখাটো ত্রুটিও বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার বা টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে এসব যন্ত্রের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, “বায়োকেমিস্ট্রি মেশিনটি পরীক্ষা করে টেকনিশিয়ান নতুন মেশিন কেনার পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া হেমাটোলজি অ্যানালাইজার দুটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট সরবরাহে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে।”

তবে কবে নাগাদ মেশিনগুলো পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তিনি।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪