জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য এক ইজিবাইক চালককে হত্যা করে তাঁর ইজিবাইক ছিনতাই করা হয়েছে। পরে মরদেহ একটি লাগেজে ভরে জেলার ইসলামপুর উপজেলার বেনুয়ারচর এলাকার একটি মাছের প্রজেক্টের পাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গত রোববার (২২ জুন) মেলান্দহ উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার ইজিবাইক চালক নায়েব আলীকে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাঁর মরদেহ লাগেজে ভরে ইসলামপুর উপজেলার বেনুয়ারচর এলাকার একটি মাছের প্রজেক্টের পাশে ফেলে রাখা হয়।
সোমবার (২৩ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে ইসলামপুর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে নায়েব আলীর পরিবারের সদস্যরা কোমরের তাবিজ ও গায়ের শার্ট দেখে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেন।
নিহতের ছেলে মামুন মিয়া বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২৪ জুন) ইসলামপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই দিন দিবাগত মধ্যরাতে প্রধান আসামি নাহিদুল ইসলামকে মেলান্দহ থানার চকরদহ সরদারবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
পিবিআই জানায়, জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় নাহিদুল ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের নিয়ে নায়েব আলীকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ লাগেজে ভরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে ইজিবাইকটি খুলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রির চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনায় নাহিদুলসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিআই তার, নিহতের মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন— সোলাইমান কবির, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, রাসেল হোসেন ও সাগর মিয়া। তাদের মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই ওই উপজেলার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় জামালপুরে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, প্রধান আসামি নাহিদুল ইসলাম ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন মেটাতে নায়েব আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য আরও উদ্ঘাটিত হবে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন