| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কাপাসিয়ার কাঁঠাল দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৯, ২০২৬ ইং | ১৮:৩৪:২৮:অপরাহ্ন  |  ৬৭০ বার পঠিত
কাপাসিয়ার কাঁঠাল দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

আকরাম হোসেন রিপন, কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকাসহ দেশ-বিদেশে কাঁঠালের জন্য সুপরিচিত গাজীপুরের কাপাসিয়া। সবুজ-শ্যামল এই জনপদে অন্যান্য বছরের মতো এবারও জাতীয় ফল কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ বছরও বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল বিদেশে রপ্তানি হবে।

ঢাকা থেকে কাঁঠাল কিনতে আসা পাইকারদের মতে, কাপাসিয়ার কাঁঠালের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আকার, স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে এই অঞ্চলের কাঁঠালের আলাদা কদর রয়েছে। এ কারণেই কাপাসিয়াকে অনেকেই ‘কাঁঠালের রাজধানী’ বলে অভিহিত করেন।

বাংলাদেশের কাঁঠাল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান অঞ্চল কাপাসিয়া। একবার একটি কাঁঠালের চারা রোপণ করলে ৪ থেকে ৫ বছর পর ফলন শুরু হয় এবং অনুকূল পরিবেশে ৭০ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এখানে কাঁঠাল চাষে তেমন কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না, ফলে এর স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।

কাঁঠাল শুধু ফল হিসেবেই নয়, এর কাঠও আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কাঁঠাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও খাদ্যপণ্য তৈরি করা হয়। কাঁঠালের মৌসুম এলে কৃষক পরিবারগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁঠাল একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল। এতে ক্যালোরি, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফাইবার ও প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, কপার ও ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য উপকারী।

উপজুড়ে প্রায় প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে ছোট-বড় কাঁঠাল বাগান। বারিষাব, খিরাটি, খোদাদিয়া, বরুন, চাঁদপুর, রাওনাট, তরগাঁও, বাঘিয়া, সোনারুয়া, কড়িহাতা, সিংহশ্রী, গিয়াসপুর, ঘাগটিয়া, নলগাঁও, ফুলবাড়িয়া ও দক্ষিণখামারসহ অসংখ্য এলাকায় ব্যাপকভাবে কাঁঠালের চাষ হয়।

মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে কাঁঠাল ও কাঁঠাল বাগান কিনছেন। একটি গাছে ৫০ থেকে ২০০টিরও বেশি কাঁঠাল ধরে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কাঁঠাল ৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৩০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

কাঁঠাল বিক্রেতা নজরুল ও মোমেন মিয়া বলেন, “এবার ফলন ভালো হয়েছে। যদিও এখন দাম কিছুটা কম, তবে মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পেয়েছি। কাঁঠাল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সরকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলে আমরা সারা মৌসুমে ন্যায্যমূল্য পেতাম।”

পাইকার মজনু মিয়া, সাহাব উদ্দিন, আবুল হাসেম ও মোহাম্মদ আলী জানান, বাজারে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বেশি কাঁঠাল সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। তবে কাপাসিয়ার কাঁঠালের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বেশি হওয়ায় ব্যবসায় লাভ করা যায়।

কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আউলিয়া খাতুন বলেন, “কাঁঠাল অত্যন্ত সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় একটি ফল। কাপাসিয়ার কাঁঠাল শুধু দেশে নয়, বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে এবং রপ্তানি হচ্ছে। কাঁঠালসহ অন্যান্য ফল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা নিয়মিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছেন, যাতে ফলন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হন।”

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪