নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে সোমবার ৭ টা ৪৭ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শুরুতে তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও ছয়টি ইউনিট সেখানে গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ করে। একইসঙ্গে ভবনের ছাদে আশ্রয় নেওয়া ১৮ জনকে উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনে ফায়ার সার্ভিস। এদের মধ্যে পুরুষ ৭ জন, মহিলা ৯ জন ও শিশু ২ জন।
জানা গেছে, ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার নামে বহুতল ওই ভবনের বিভিন্ন তলায় পোশাক, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন জিনিসের দোকান রয়েছে। ভবনের ভূ–গর্ভস্থ (বেসমেন্ট) তলায় আগুন লেগেছে বলে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটিতে আগুন লাগার পর ভবনের দুইতলা থেকে ভয়ে বেশ কয়েকজন লাফিয়ে পাশের ভবনের ছাদে নামেন। এমন সময় দুজন পায়ে আঘাত পান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেইনস) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বেজমেন্টে গাড়ির গ্যারেজ থাকার কথা থাকলেও সেখানে ছিল সিলিন্ডার ও জেনারেটর। জেনারেটর থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর আগুনের মূল কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, ভবনটিতে শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, অফিস ও আবাসিক ফ্ল্যাট ছিল। আমরা দেখেছি, হুইলচেয়ারে করেও অনেকে রেস্টুরেন্ট কিংবা উপরের দিকে গিয়েছিলেন। প্রায় ২০০টির কাছাকাছি পরিবারের সদস্য ছিল। প্রায় একশ’র কাছাকাছি মানুষকে আমরা উপর থেকে নিরাপদে নামিয়ে এনেছি।
ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়ির পানি শেষ হয়ে যাচ্ছিল উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, পাশেই বেইলি রোডের একটি পুকুর থাকায় সেখানকার পানি ব্যবহার করে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। অতিরিক্ত ধোঁয়া ছিল, ধোঁয়ার কারণে শুরুতে আমাদের কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে। ৫ থেকে ৬ তলা পর্যন্ত ধোঁয়া ছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ভবনে বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁয় নানা বয়সী মানুষ রাতের খাবার খাওয়ার সময় আগুন লাগে। তখন ভবন থেকে বের হওয়ার সুযোগ না পেয়ে ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশু ছিল বেশ কয়েকজন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব