রাবি প্রতিনিধি: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবিতে দুই দফা দাবি তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একদল শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দফা দাবি হলো, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা এবং বান্দরবান, চট্টগ্রামসহ দেশের সব বন্যাকবলিত এলাকায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা।
এসময় তারা 'পানি নিষ্কাশন পথ রুখবে যারা, গণশত্রু ও গণবিরোধী তারা', 'জনগণ ভাসে বন্যার জলে, প্রশাসন ঘুমায় এসির তলে', 'মৃত্যুর সংখ্যা লুকিও না', 'ত্রাণ চাই না, নাটক বন্ধ করো পিও, স্থায়ী সংস্কার চাই', 'বাঁধ আটকে ব্যাবসা কেন, রাষ্ট্র জবাব চাই' ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, 'রাষ্ট্রক্ষমতায় এক বছর পূর্ণ হলেও জনগণ এখনও অধিকারবঞ্চিত। বন্যাকবলিত মানুষ ত্রাণ ও নিরাপত্তা পাওয়ার পরিবর্তে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জনগণের বন্ধু হওয়ার বদলে ক্ষমতাসীনরা জনগণের দুর্ভোগের প্রতি উদাসীন আচরণ করছে।'
তিনি বলেন, 'গত এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নদী যথাযথভাবে ড্রেজিং না করা এবং শহরাঞ্চলে ত্রুটিপূর্ণ পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণেই এ দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়ালেও বর্তমানে ত্রাণ সংগ্রহের নামে স্ট্যান্ডবাজি ও প্রতারণার ঘটনায় মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি এবং ইতোমধ্যে ৫৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এমন ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লা, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বন্যার পানি ঠেলে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম