| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সুন্দরবনে বাঘের দেখা পেলেন বনকর্মীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৫, ২০২৬ ইং | ২১:৪৮:২৮:অপরাহ্ন  |  ৩০২ বার পঠিত
সুন্দরবনে বাঘের দেখা পেলেন বনকর্মীরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি: সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বাঘের দেখা পেয়েছেন বনকর্মীরা। এমনকি মোবাইলফোনে সুন্দরবনের অঘোষিত রাজার ছবিও তুলেছেন তারা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে বাঘটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।

বনকর্মীদের মোবাইলফোনে ধারণ করা ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, নদীর পাশ দিয়ে এসে কেন্দ্রের বন অফিসের সামনের ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে চারপাশ দেখছে বাঘটি।

দক্ষিণ দিক থেকে আসা বাঘটি একটু অপেক্ষা করে এবার পেছনেও ফিরে দেখে। পরে আবার রাজসিক ভঙ্গিতে হেঁটে সামনের উত্তর পাশের জঙ্গলের দিকে চলে যায়।

সুন্দরবন থেকে উদ্ধার আহত বাঘিনীকে চিকিৎসা শেষে গত ১৩ জুলাই এই ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের দক্ষিণে অবমুক্ত করেছিল বন বিভাগ। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বৈদ্যমারী ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন শরকির খাল সংলগ্ন বন থেকে ফাঁদে আটকে থাকা আহত বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়।

তবে শুক্রবার দেখা পাওয়া বাঘটি সেই বাঘিনী কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে যারা ভিডিও করেছেন, তাদের বলতে শোনা যায়, এটি বনে অবমুক্ত করা সেই বাঘ।

এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে বাঘের বিচরণ আগের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। হরিণের সংখ্যাও বেড়েছে। চিকিৎসার পর বনে অবমুক্ত করা বাঘটি ছাড়ার আগে আমরা আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ২০টি ক্যামেরা ট্র্যাপ বসিয়েছিলাম। এই ক্যামেরাগুলোতে এরই মধ্যে নতুন করে আরও তিনটি বাঘের ছবি শনাক্ত করা গেছে।

ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মূলত অবমুক্ত করা বাঘিনীটির গতিবিধি, বিচরণ ও টিকে থাকা পর্যবেক্ষণে বনের আট কিলোমিটারজুড়ে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা (গবেষণায় ব্যবহৃত বিশেষ ক্যামেরা) স্থাপন করা হয়। উদ্ধার বাঘকে সুস্থ করে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশে এটাই প্রথম। তাই বাঘিনীটিকে স্যাটেলাইট কলার (বিশেষ ধরনের ট্র্যাকিং ডিভাইস, যা বন্য প্রাণীর গলায় কলারের মতো পরিয়ে দেওয়া হয়) দিয়ে বনে ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতায় স্যাটেলাইট কলার সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিচরণ এলাকায় ট্র্যাপ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এর একটি স্থাপন করা হয় শরকির খাল সংলগ্ন বনাঞ্চলে, যেখান থেকে ফাঁদে আটকা পড়া বাঘটি উদ্ধার করা হয়। সেই ক্যামেরাতেও সাম্প্রতিক সময়ে একটি বাঘের ছবি আমরা শনাক্ত করেছি। ওই এলাকাটি লোকালয় থেকে একদমই কাছে।

ক্যামেরা ট্র্যাপ ছাড়াও টহলকালে বন বিভাগের কর্মীরা আগের চেয়ে বেশি বাঘের পায়ের ছাপ পাচ্ছেন। বনের বিভিন্ন অংশে হরিণের সংখ্যাও আগের চেয়ে বেড়েছে এবং বড় বড় হরিণের দেখা পাওয়া যাচ্ছে।

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, গতকাল দেখা পাওয়া বাঘটিও নারী। তবে এই বাঘিনীটি আমাদের ছাড়া বাঘিনী বলে মনে হচ্ছে না। ডোরা কাটা বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে, এটি অন্য আরেকটি বাঘিনী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ক্যামেরাগুলোতে বাঘ, চিত্রা হরিণ ছাড়াও মায়া হরিণ, বন মোরগ, বন্য শূকর, মেছ বাঘ (ফিশিং ক্যাট), উট বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর ছবিও ধরা পড়েছে জানিয়ে এসিএফ বলেন, বনের চাঁদপাই অংশে মায়া হরিণ খুব একটা দেখা যেত না। ক্যামেরাতে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি মায়া হরিণ দেখা গেছে। তা ছাড়া বনে যে অংশে সম্প্রতি বাঘিনীটি ছাড়া হয়েছে, সেখানে খাবারের পর্যাপ্ততা আছে। আশা করা যায়, তার (বাঘিনীর) খাবারের জন্য শিকার বা টিকে থাকায় সমস্যা হচ্ছে না।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪