জামালপুর প্রতিনিধি: বিএনপির নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ সরকারের সময় দায়ের করা পৃথক তিনটি নাশকতা মামলায় বিএনপির ৮৪ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত ।
আদালত সূত্র জানা যায়, চার্চ গঠনের ধার্য তারিখে আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন মামলার সংশ্লিষ্ট বিচারকরা। পাশাপাশি মামলার চার্চ গঠনসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জারি করেন ।
সম্প্রতি জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ ও ২-এর বিচারকরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় এই আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাপ্রাপ্তরা হলেন- বিএনপি ইসলামপুর পৌর শাখার সভাপতি রেজাউল করিম ঢালী, উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আবির আহমেদ বিপুল মাস্টার, নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ কাজী, যুবদল নেতা বিপুল মিয়া, গোয়ালেরচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান, গাইবান্ধা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাচ্চু সরদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্বাস আলী এবং গোয়ালেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম মেম্বার ও সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক পাগালসহ ৮৪ জন ।
দলীয় সুত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকাররের পতনের লক্ষ্যে মুখে কালো পতাকা বেঁধে সারা দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি।
ওই কর্মসুচি বন্ধ করতে ওই দিন রাতে ইসলামপুর থানা করর্মরত তৎকালীন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২২ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, কর্মসূচি সফল করতে ওইদিন রাতে দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে ইসলামপুর পৌর শহরের চর গাঁওকুড়া করিম চালী মোড়ে এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২২ জন নেতা-কর্মীর নামে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে মামলা করেন ইসলামপুর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।
২০২৪ সালের ৩০ জুন ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তারেক আহমেদ বিএনপি ২৫ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
চলতি মাসে গত ১৫ জুলাই আদালতে হাজির না হওয়ায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক ২০২৩ সালে ইসলামপুর থানায় দায়ের করা অন্য একটি নাশকতা মামলায় ৪৬ জন এবং একই অভিযোগে ২০২৪ সালের একটি মামলায় ১৩ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত ।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব বলেন, ‘রাজপথে আন্দোলনের দায়ে হয়রানি করতে আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ গায়েবি মামলা দিয়েছিল। ওইসব গায়েবি মামলায় এখনো হয়রানির শিকার হচ্ছে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনে নেতা-কর্মীরা। হাজির না হওয়ায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে । ২৮ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাওয়া হবে ।’
বিএনপি নেতা-কর্মীদের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মো. শাহ নেওয়াজ সুমন বলেন, ‘অভিযোগ গঠনের ধার্যদিনে আদালতে হাজির না থাকায় দুই দিনে তিনটি মামলায় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ৮৪ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।’
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় এসেছে।
ইসলামপুর থানার সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল কর্মকর্তা এসআই মো. সোহেল রানা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেয়েছি। পরোয়ানাপ্রাপ্তরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।’
ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জামালপুর-২ আসনের এমপি এ.ই সুলতান মাহমুদ বাবু মোবাইল ফোনে বলেন, নেতা কর্মীদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের করা মামলা নিয়ে আইন মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব