রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: অর্থঋণ আদালত আইনের অধীনে ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত নিলাম প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি রিট আবেদন করার সুযোগ নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রায়ে আদালত বলেন, অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১২(৩) ধারার অধীনে শুরু হওয়া নিলাম প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দায়েরের কোনো আইনি সুযোগ নেই। বিবাদীপক্ষের এ যুক্তি গ্রহণ করে আদালত পূর্বে জারি করা রুল এবং দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বাতিল ও প্রত্যাহার করেন।
এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য মামলার রায়ে হাইকোর্ট এ পর্যবেক্ষণ দেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে গত ১৬ জুলাই বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আহসান। ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং অন্য দুই বিবাদীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান কিশোর।
রায়ে আদালত বলেন, নিলামে সম্পত্তি বিক্রি সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রেতার নামে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন হলে তার আইনগত চূড়ান্ত স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এ অবস্থায় আইনি সময়সীমা অতিক্রম করার পর রিটের মাধ্যমে নিলাম বাতিল বা সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই।
মামলার পটভূমি
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে একটি ব্যাংক থেকে এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেন। পরে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সুদসহ বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২ লাখ ৮০ হাজার ৭৪৫ টাকা।
ঋণ আদায়ে ব্যাংক ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নিলামের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকায় বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রি করে। সর্বোচ্চ দরদাতা সম্পত্তিটি ক্রয় করেন এবং ২০২২ সালের জুনে তার নামে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি ও খতিয়ানে নামজারি সম্পন্ন হয়।
এরপর এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে রুল জারি করে হস্তান্তর প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। তবে শর্ত ছিল, ৯০ দিনের মধ্যে পুরো বকেয়া ঋণ পরিশোধ করতে হবে; অন্যথায় রুল ও স্থগিতাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালত রিট আবেদন খারিজ করে দেন।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
আদালত বলেন, অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১২(৩) ও ১২(৮) ধারায় নিলামের বিরুদ্ধে বিকল্প আইনি প্রতিকারের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সেই প্রতিকার বিদ্যমান থাকা অবস্থায় সরাসরি রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ছাড়া আদালতের দেওয়া ৯০ দিনের শর্ত পূরণ না করায় রুল ও স্থগিতাদেশ আইনগতভাবে আগেই অকার্যকর হয়ে যায়। ইতোমধ্যে নিলাম ক্রেতাদের নামে দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি সম্পন্ন হওয়ায় তারা সম্পত্তির অখণ্ডনীয় আইনগত স্বত্ব অর্জন করেছেন। তাই রিটের মাধ্যমে সেই নিলাম বাতিল বা সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
রায়ে আরও বলা হয়, আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিকল্প কার্যকর আইনি প্রতিকার বিদ্যমান থাকলে রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য হয় না।
তবে আদালত ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন, ঋণের সম্পূর্ণ বকেয়া এবং আইনানুগ পাওনা সমন্বয়ের পর যদি কোনো অতিরিক্ত অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তা যেন অবিলম্বে রিট আবেদনকারীকে ফেরত দেওয়া হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম