হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক পোশাককর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এবং হালুয়াঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে তরুণী (২১)।
অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে উপজেলার ৭নং শাকুয়াই ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের শাহরিয়া আলম তিনি কাশেম উদ্দিনের ছেলে। একই অভিযোগে তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মামলা না করতে হুমকি দেওয়া এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সংবাদ সম্মেলন ও থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ওই তরুণীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই শাহরিয়া আলমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তরুণীর দাবি, সম্পর্কের সময় তরুণী নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে অভিযুক্তের পড়াশোনার খরচও বহন করতেন। পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, গত ২৪ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত কৌশলে তার ছোট ভাইকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তিনি ঘর থেকে টয়লেটে যাওয়ার সময় শাহরিয়া আলম ঋত্বিক তার মুখ চেপে ধরে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর তার চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তারা স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযুক্তের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং মামলা করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশ্বাসে অপেক্ষা করায় থানায় অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
গত ২৯ জুলাই বিকালে হালুয়াঘাট প্রেসক্লাবের এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমি নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে তার পড়াশোনার খরচও বহন করেছি। এখন আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
থানায় দেওয়া অভিযোগে মোট তিনজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ