| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সহপাঠীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ৩১, ২০২৬ ইং | ২০:১৯:২৬:অপরাহ্ন  |  ৭৪৯ বার পঠিত
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সহপাঠীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে কৌশলে বাসায় নিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত স্বীকারোক্তিমূলক পোস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, অভিযুক্ত মুমতাহীন ইসলাম ইনান তার এক নারী বন্ধুকে বাইরে দেখা করার কথা বলে কৌশলে একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে কোকা-কোলার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে অর্ধচেতন অবস্থায় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

পরে ইনান ও তার বন্ধু আহসান কবির নাফিম মিলে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে ভুক্তভোগী অর্ধচেতন অবস্থাতেই প্রতিরোধ করে কোনোভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর সহপাঠীরা অভিযুক্তদের মুখোমুখি করলে তাদের হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের বিভিন্ন স্ক্রিনশট সামনে আসে। বাংলানিউজের হাতে আসা এসব স্ক্রিনশটের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব কথোপকথনে অতীতেও বিভিন্ন তরুণী, এমনকি নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে একই ধরনের কৌশলে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর মুমতাহীন ইসলাম ইনান তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কথিত স্বীকারোক্তিমূলক পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে বাসায় নেওয়ার পর তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে যান এবং ফোন বন্ধ রাখেন, যাতে তার বন্ধু সুযোগ নিতে পারে। পোস্টটিতে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়নবিরোধী সেল ‘শিবরেক’ এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন।

এ বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব কমিউনিকেশন্স জানিয়েছে, নারীর প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং এ ধরনের ঘটনায় তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলো তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বাড্ডা থানার ডিউটি অফিসার এসআই তারেক আজিজ বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

প্রসঙ্গত, অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪