মেহেরপুর প্রতিনিধি: ঝাঁকঝমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নামফলক উন্মোচন করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল মেহেরপুর পৌরবাসীর শারীরিক কসরত ও বিনোদনের জন্য ভৈরব নদীর তীরে (সরকারি জমিতে) গড়ে উঠবে একটি আধুনিক উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার ও পার্ক। কিন্তু উদ্বোধনের দীর্ঘ পাঁচ মাস পার হতে চললেও সেখানে পার্ক বা ব্যায়ামাগারের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। উল্টো প্রকল্প এলাকার সরকারি জমিতে এখন রীতিমতো চাষ হচ্ছে পাট!
সরেজমিনে মেহেরপুর পৌরসভার ভৈরব নদীর তীর সংলগ্ন ওয়াকওয়ের পাশে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে দেখা যায় এক চরম হতাশার চিত্র। গত ৩১ মার্চ মেহেরপুরের বিদায়ী জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার ও পার্ক নির্মাণের নামফলক উন্মোচন করেছিলেন। এই উদ্যোগকে সে সময় সাধুবাদ জানিয়েছিল সর্বস্তরের মানুষ। ওয়াকওয়েতে নিয়মিত যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের আশা ছিল, নদীর পাড়ের মনোরম পরিবেশে ব্যায়াম ও সময় কাটানোর একটি চমৎকার জায়গা তৈরি হবে। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে আজ পর্যন্ত সেখানে উন্নয়নমূলক কোনো কাজেরই ছোঁয়া লাগেনি।
বর্তমানে নির্ধারিত এলাকাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে পাট বপন করা হয়েছে। পার্কের জন্য নির্ধারিত জমিতে এখন দোল খাচ্ছে সবুজ পাটগাছ। শুধু তাই নয়, উদ্বোধনের সেই স্মৃতি বহনকারী নামফলকটির চারিপাশে লতাপাতা ও আগাছা জন্মে তা প্রায় ঢেকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটি একটি পরিকল্পিত পার্ক ও ব্যায়ামাগারের নামফলক।
প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়া এবং জায়গাটি বেদখল হয়ে পাট চাষের আওতায় চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা বলেন, সরকারি উদ্যোগে একটি জনকল্যাণমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর এভাবে ফেলে রাখা এবং তদারকি না করা অত্যন্ত দুঃখজনক। নামফলক উন্মোচনের পর কাজের কোনো অগ্রগতি না হওয়া প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলছে।
স্থানীয়দের দাবী, দ্রুত এই অব্যবস্থাপনা দূর করে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করা হোক এবং নামফলক অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার ও পার্কের নির্মাণ কাজ দৃশ্যমান করা হোক।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, বিদায়ী জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবীরের উদ্যোগে ভৈরব নদীর তীরে উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার ও পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত বাজেট না থাকার কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব