অনলাইন ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া সাম্প্রতিক আন্দোলনের কারণে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হওয়া আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ওয়াংচুক অনশনে বসেছিলেন। তাঁর অনশন কর্মসূচি আন্দোলনে নতুন গতি আনে বলে দাবি করেন তিনি।
ওয়াংচুক বলেন, এই আন্দোলনের পর ভারতের তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে, অন্যায় বা অপছন্দের বিষয় নীরবে মেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক নয় এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
৫৯ বছর বয়সী এই শিক্ষাবিদ জানান, জুন ও জুলাই মাসে দিল্লির তীব্র গরমের মধ্যে তিনি টানা ২৬ দিন অনশন করেন। এ সময় তিনি শুধু লবণ ও পানি গ্রহণ করেন এবং প্রায় ১১ কেজি ওজন হারান। পরে তাঁর কিছুটা ওজন ফিরে এসেছে।
অনশনের সময় দিল্লি পুলিশ তাঁকে মঞ্চ থেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওয়াংচুক বলেন, হাসপাতালে থাকার শেষ কয়েক দিন তাঁর কাছে সেটিকে কারাগারের মতো মনে হয়েছিল। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পর আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।
ওয়াংচুকের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শুধু একটি পরীক্ষাব্যবস্থার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে ভারতের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থার গভীর সংকট জড়িত। তিনি বলেন, গত কয়েক দশক ধরে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
তিনি বর্তমান পরীক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, অধিকাংশ পরীক্ষা মুখস্থনির্ভর ও বহু নির্বাচনী প্রশ্নভিত্তিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বাস্তব দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না।
ওয়াংচুকের মতে, শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। ব্যবহারিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক যোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দিলে ভবিষ্যতের জন্য আরও দক্ষ কর্মশক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আগামী ১৫ বছরে দেশ ও বিশ্বের সম্ভাব্য পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নীতিতে দূরদর্শী পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।
তবে ভারত সরকার দেশটিতে কর্মসংস্থানের সংকট ও বেকারত্ব নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত বলে দাবি করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ