রিপোর্টর্স২৪ ডেস্ক: চলতি বছরের শুরুতে হিন্দি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ভক্ত ও সংগীতাঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেন ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। তবে তার এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া কোনো পদক্ষেপ ছিল না। বরং বেশ কিছুদিন ধরেই সিনেমার গানে আগ্রহ হারাচ্ছিলেন তিনি এমনটাই জানিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও সংগীত পরিচালক আমাল মালিক।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অরিজিতের প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পেছনের নানা দিক তুলে ধরেন আমাল। তার ভাষ্য, অরিজিতের সঙ্গে যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, তাদের কাছে এই ঘোষণা মোটেও অপ্রত্যাশিত ছিল না। বরং গত দু-এক বছর ধরেই প্রচলিত প্লেব্যাকের প্রতি অরিজিতের আগ্রহ কমে যাওয়ার বিষয়টি তারা লক্ষ্য করছিলেন।
আমাল মালিক বলেন, অরিজিৎকে কেউ কোনোভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেননি। সিদ্ধান্তটি পুরোপুরিই তার নিজের। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে তারা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, প্রচলিত ধারার সিনেমার গানে অরিজিতের আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে আসছে।
আমালের ভাষায়, ‘আমি মনে করি না কেউ ওকে কোনোভাবে জোর করেছিল। সিদ্ধান্তটা ও নিজেই নিয়েছে। আমরা যারা ওর সঙ্গে কাজ করেছি, তারা দু-এক বছর আগেই বুঝতে পেরেছিলাম যে এই ধরনের ছবির গানে ওর আগ্রহ কমে গেছে।’
অরিজিতের সিদ্ধান্তের আরেকটি দিকও তুলে ধরেছেন আমাল মালিক। তার মতে, হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পে অনেক সময় বিপুল অর্থ ব্যয় করে জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে গান গাওয়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। নির্মাতাদের মধ্যে এমন একটি ধারণাও কাজ করে যে, অরিজিৎ সিং গান গাইলেই সেটি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
তবে অরিজিৎ নিজে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখেছেন বলে মনে করেন আমাল। তার উপলব্ধি ছিল, কেবল একজন জনপ্রিয় গায়কের নামের ওপর নির্ভর করলেই একটি গান দীর্ঘদিন শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিতে পারে না। বরং একটি গান সফল ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে গায়ক, সুরকার ও গীতিকারের মধ্যে শক্তিশালী যৌথ রসায়ন থাকা জরুরি।
আমালের মতে, অরিজিৎ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য গান গাওয়ার পর এই বাস্তবতাটি আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। বিভিন্ন ভাষায় প্রায় ৭০০টি গান গাওয়ার পর যেকোনো শিল্পীর কাজের প্রতি একঘেয়েমি কিংবা ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। তাই অরিজিতের ক্ষেত্রেও এমন অনুভূতি তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
তবে ক্যারিয়ারের শীর্ষ অবস্থানে থেকে নিজে থেকেই একটি জনপ্রিয় ধারার কাজ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়াকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আমাল। তার মতে, সাফল্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা অবস্থায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস সবাই দেখাতে পারেন না।
এদিকে আগামী ‘আওয়ারাপন টু’ চলচ্চিত্রেও অরিজিতের সঙ্গে কাজ করেছেন সংগীত পরিচালক আমাল মালিক। ফলে অরিজিতের প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তার নিজের কাজের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
অরিজিতের ঘোষণার পর তার অসংখ্য ভক্তের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের পরও নিজের সৃজনশীল পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে অরিজিৎ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটিকেই এখন তার সহকর্মীরা দেখছেন একজন শিল্পীর নিজস্ব পথ বেছে নেওয়ার সাহসী উদাহরণ হিসেবে।
রিপোর্টর্স২৪/ঝুম