| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলবে অঞ্চলভিত্তিক: ডিএসসিসি প্রশাসক

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৪, ২০২৬ ইং | ১১:৪৫:০১:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৪ বার পঠিত
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলবে অঞ্চলভিত্তিক: ডিএসসিসি প্রশাসক

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকার যানজট ও সড়কে বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠা ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে এবার অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা শহরকে কয়েকটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ভাগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার রিকশা ওই এলাকার মধ্যেই চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় গিয়ে যাতে যানজট সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনে দিন ও সড়কভিত্তিক চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম সম্প্রতি নগর ভবনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর রাস্তায় বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা এদিক-সেদিক, এমনকি উল্টো দিকেও চলাচল করছে। এসব রিকশার অনেক চালকই ট্রাফিক আইন ও সড়কে চলাচলের শৃঙ্খলা মানছেন না। ফলে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ছে।

তিনি বলেন, রিকশার সমস্যাটা কোত্থেকে আসলো, কীভাবে আসলো সেটা বের করে সমাধান করতে হবে। এই সমস্যাটাও আমাদেরই, আমাদেরই সমাধান করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকেই সমাধান করতে হবে।

ব্যাটারিচালিত রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা ওই এলাকার মধ্যেই চলাচল করবে। এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় গিয়ে যাতে যানজট সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দিন ও সড়কভিত্তিক চলাচলের নিয়মও নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ডেমরার একটা রিকশা কোনোভাবেই নিউ মার্কেটে যেতে পারবে না। অঞ্চলভিত্তিক আমরা ভাগ করে দেব। ভাগ করে দিয়ে তাদের হয়তো দিনও ভাগ করে দেব। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট কিছু সড়কে রিকশা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার ভাষায়, কিছু কিছু রাস্তা ভাগ করে দেব, কিছু কিছু রাস্তায় যাতে তারা একেবারেই চলাচল করতে না পারে—সেই জায়গাটা ঠিক করে দেব।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কেউ ঢাকার রাস্তায় রিকশা চালাতে পারবেন না। কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে অবাধে রিকশা চালানো কিংবা ডেমরা থেকে নদী পার হয়ে অন্য এলাকায় গিয়ে রিকশা চালানোর সুযোগও থাকবে না। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার রিকশাও নির্বিচারে দক্ষিণ সিটি এলাকায় চলাচল করতে পারবে না।

রিকশা ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, বন্যা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় আসছেন। তাদের কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, আবার কেউ ভ্যান নিয়ে সবজি বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছেন।

এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের ঢাকামুখী প্রবেশ রাজধানীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে মনে করেন তিনি।

আব্দুস সালাম বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষকে কি আমরা ঢাকা শহরে জায়গা দিতে পারব? এটাও তো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।”

তার মতে, ঢাকার জনসংখ্যা, যানবাহনের সংখ্যা এবং সড়কের ধারণক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনতে হলে রিকশাসহ অনানুষ্ঠানিক পরিবহন ব্যবস্থাকেও একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এ কারণে রিকশার নিবন্ধন ও লাইসেন্সিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এসব রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকাকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

আঞ্চলিকভাবে রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আইন প্রণয়ন করে সিটি কর্পোরেশনের কাছে পাঠানোর পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।

আব্দুস সালাম বলেন, আমরা অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করে দেব। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে আমরা এই বিষয়টিকে একটি পদ্ধতির মধ্যে আনতে চাই। সেটার জন্য তো কিছুটা সময় লাগবে এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা চাই।

শুধু রিকশা নয়, রাজধানীর বাস চলাচলেও শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ঈদের আগে যত্রতত্র বাস থামানো এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাস কোথায় থামবে এবং কোথা থেকে যাত্রী ওঠানামা করবে এ বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা চলছে।

আব্দুস সালাম বলেন, “যত্রতত্র যাতে বাস থামাতে না পারে, যত্রতত্র যেখান-সেখান থেকে যাতে যাত্রী উঠাতে না পারে—এটাও একটা সিস্টেমে আনতে হবে।”

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে তাদের কিছু সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকেও ধীরে ধীরে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কাজ চলছে। তাঁর আশা, কয়েক মাসের মধ্যে পরিবহন ব্যবস্থা অনেকটাই একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির মধ্যে চলে আসবে।

 রাজধানীর যানজট ও অব্যবস্থাপনার জন্য শুধু প্রশাসন বা সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী না করে নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য, সুন্দর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত স্থানে যানবাহন রাখা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আলোকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, এই নীতিমালা সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হলে সরকারের কোষাগারেও রাজস্ব জমা হবে।

তিনি আরও জানান, এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধিমালা সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একটি সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের বিষয়েও প্রচলিত বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রাজধানীর ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনায় অঞ্চলভিত্তিক চলাচল, নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং কার্যকর করা গেলে একদিকে যেমন অনিয়ন্ত্রিত রিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে যানজট ও সড়কে বিশৃঙ্খলা কমানোর ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪