| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৫, ২০২৬ ইং | ১০:৪৭:৩২:পূর্বাহ্ন  |  ১৯০ বার পঠিত
খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৫ আগস্ট)। ১৯৪৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেত্রী। এস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদার দম্পতির তৃতীয় সন্তান ছিলেন খালেদা জিয়া।

‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এবারই প্রথম তার জন্মদিন পালিত হচ্ছে। তবে বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও জন্মদিন ঘিরে কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন রাখেনি বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় ঢাকাসহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয়ভাবে আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার খালেদা জিয়ার তৃতীয় জন্মদিন পালিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন, ৬ আগস্ট স্থায়ীভাবে মুক্তি পান বেগম খালেদা জিয়া। এর আগে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ও নানা শারীরিক জটিলতায় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

একসময় বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্ট কেক কেটে দলীয় চেয়ারপারসনের জন্মদিন পালন করতেন। তবে ২০১৬ সাল থেকে দলীয়ভাবে কেক কাটা বা বড় কোনো আয়োজনের পরিবর্তে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে জন্মদিন পালন করে আসছে বিএনপি।

দীর্ঘদিন নানা রোগে অসুস্থ থাকার পর কয়েক মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। জানাজা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে খালেদা জিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিহত হওয়ার পর তার গড়ে যাওয়া বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন গৃহবধূ খালেদা জিয়া।

দলের নেতাকর্মীদের দাবির মুখে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন তিনি। এরপর দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। সব মিলিয়ে তিন দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি দুবার সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

ওয়ান-ইলেভেনের পর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি কারাভোগ করেন। সে সময় কারাগারেই জন্মদিন কাটে তার। কারাবন্দি অবস্থাতেও তার রাজনৈতিক অবস্থান ও অনড় মনোভাবের কারণে তৎকালীন সরকার ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ থেকে সরে এসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

দলীয় প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়া একাধিক সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনী মাঠে তার ব্যক্তিগত সাফল্যও ছিল উল্লেখযোগ্য। পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে মোট ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটি আসনেই জয়লাভ করেন তিনি।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচনে প্রতিবার পাঁচটি করে আসনে প্রার্থী হন খালেদা জিয়া এবং প্রতিটি আসনেই জয়ী হন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতেই বিজয়ী হন। তবে ওই বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় সরকার গঠন করতে পারেনি।

এরপর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দুর্নীতির দুই মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যেতে হয় তাকে।

করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে সাময়িকভাবে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। তবে এ সময় তাকে নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া এবং দেশের বাইরে না যাওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। ফলে মুক্তি পেলেও গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় অনেকটা কারাবন্দি জীবন কাটাতে হয় তাকে।

এ সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চাওয়া হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সাময়িক মুক্তির শর্তের কথা উল্লেখ করে সেই অনুমতি দেয়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। এর পরপরই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের একে একে কারামুক্ত করা হয়। ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে  শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানীতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয়ভাবে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া ঢাকাসহ সারা দেশের বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিজ নিজ এলাকায় আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ বিকেলে ঢাকা-১৭ আসনের মহাখালী কড়াইল বস্তি এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে অনুদান বিতরণ এবং দোয়া অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জেও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির তিন দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়াবালা গরীবপুর গ্রামের বায়তুল মামুর জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানের আয়োজনে বাদ জুমা অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলের আগে স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব, সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার হারুনুর রশিদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের, জেড এম মতিন, আব্দুল হান্নান, ফজলুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল হক রনি, ছামিউল ইসলাম আক্কাস, পৌর যুবদলের সভাপতি আবু শাহীন, মাহাদী হাসান তমাল, আতিকুর রহমান সুজনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

দোয়া মাহফিলে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার ভূমিকা এবং দেশের রাজনীতিতে তার দীর্ঘ পথচলা স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪