| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৯, ২০২৬ ইং | ০৩:৩০:৩০:পূর্বাহ্ন  |  ২৪৫ বার পঠিত
রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

চবি প্রতিনিধি: ‘ঐতিহ্যের আলোয় এক দশক; শেকড়ের টানে, সংস্কৃতির জয়গানে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। উদ্বোধক ছিলেন রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রধান উপদেষ্টা ও প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাঞ্চন চাকমা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুম ঈসটেটিকস কাউন্সিলের (জাক) সভাপতি শিশির চাকমা, চিটাগং হিল ট্রাক্টস রাইটার্স ইউনিয়নের সভাপতি মংক্য শোয়েনু নেভী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পাহাড়ী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গৈরিকা চাকমা প্রমুখ।

রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি জাল্লাং এনরিকো কুবির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রেয়া তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ক্যাপরিও চাকমা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রিবেক চাকমা।

অনুষ্ঠানে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জুম ঈসটেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি শিশির চাকমাকে রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, আদিবাসী জীবন ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার মাধ্যমে রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে সংগঠনটিকে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীগুলোর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

উদ্বোধক প্রফেসর ড. কাঞ্চন চাকমা বলেন, রঁদেভূ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের কাছে আদিবাসী জীবন ও সংস্কৃতিকে পরিচিত করে তুলছে। এক দশকের পথচলায় সংগঠনটি আদিবাসী জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাক সভাপতি শিশির চাকমা বলেন, আদিবাসী সংস্কৃতি চর্চায় রঁদেভূ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিকে মূলধারায় তুলে ধরতে সংগঠনটিকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

মংক্য শোয়েনু নেভী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার একটি উর্বর ক্ষেত্র। রঁদেভূর কার্যক্রম শুধু পার্বত্য অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অন্যান্য অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক পরিসরেও ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

গৈরিকা চাকমা বলেন, সাহিত্য ও শিল্পচর্চায় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়া আশাব্যঞ্জক। রঁদেভূকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখতে হবে।

রিবেক চাকমা বলেন, আদিবাসী সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে রঁদেভূর মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনটিকে প্রথাগত সাংস্কৃতিক সংগঠনের গণ্ডি পেরিয়ে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্ব শেষ হয়। পরে রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪