গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশাচালক আতাউর রহমান আতা মিয়া (৬০) হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সংস্থাটির দাবি, হত্যার পর ছিনতাই করা অটোরিকশাটি ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে সেই অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন অভিযুক্তরা। গ্রেফতারের পর অটোরিকশা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই এসব তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্তদের জবানবন্দিতে প্রকাশ পায় যে, আসামীদ্বয় ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে অটো রিচা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। আসামী নকিবুলের দূর সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় চালক আতাউর রহমান আতা মিয়াকে তাদের সহজ টার্গেট মনে হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া চালা বাজার এলাকার রাজ্জাক খানের ছেলে রাজীব খান (২৯), একই উপজেলার মির্জানগর গ্রামের নাসির উদ্দীনের ছেলে নকিবুল হাসান @রাকিব (২৪) এবং চোরাই মালামাল জেনেশুনেও অটোরিকশা কেনা এবং হেফাজতে রাখার অভিযোগে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া বাসস্ট্যান্ডের আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো: কিবরিয়া (৪২) গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে, গত ২০ আগস্ট রাত ৮টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে এক নির্জন কলাবাগানের সামনে অটোরিকশা চালক আতাউর রহমানকে (৬০) হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাই করা হয়।
পরিবারের দাবি, এ লোমহর্ষক ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে শোক সইতে না পেরে বৃদ্ধা মা জহুরা খাতুন (৭৫) ১ ঘন্টা পরেই মারা যান।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, নিহতের সঙ্গে আসামিদের পূর্বপরিচয় ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে ফোন করে একটি নির্জন কলাবাগানের পাশে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে রশি দিয়ে গলা চেপে ধরা হয় এবং রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া এলাকায় পালিয়ে যায় তারা।
পরে অটোরিকশাটি পরিষ্কার করে কিবরিয়ার কাছে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। বিক্রির অর্থ অভিযুক্তরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার বলেন, অপরাধীরা ধারণা করেছিল নির্জন স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পার পেয়ে যাবে। তবে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব