| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার হত্যাকাণ্ড

খুনের দায় স্বীকার, কারাগারে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৪, ২০২৬ ইং | ১১:১৩:২৭:পূর্বাহ্ন  |  ২৯০৪ বার পঠিত
খুনের দায় স্বীকার, কারাগারে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গ্রেপ্তার দুই যুবককে রংপুর মেট্রোপলিটন মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তাঁরা নিজেদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ায় পুলিশ তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেনি।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে জবানবন্দিতে দেওয়া তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁদেরও শনাক্ত করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যদের নাম ও ভূমিকা বের করে তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার পর রোববার ভোরে মাছুয়াপাড়া এলাকার দুই যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চারজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং নেপথ্যে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতে দুই আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চারজনের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং হত্যার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনের দিকেই নজর রয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪