| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬ ইং | ১১:২২:৫৯:পূর্বাহ্ন  |  ৪৭৩৭ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান দুই দিনে দুবার মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছে—এমন অভিযোগের পর মঙ্গলবার এই হামলা চালানো হয়।

এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল আজরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডানের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ধ্বংস করেছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা হলো। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ছয় মাসে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। মঙ্গলবার সাময়িকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছায়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গত দুই দিনে দুবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করে। তবে যুদ্ধজাহাজটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যায়। এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি বলেও জানানো হয়।

এরপর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় ওমান সাগরে থাকা ইরানের তেলবাহী জাহাজ এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ ও এম/টি রিয়েস্কো এবং খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা এম/টি দেরিয়াতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

সেন্টকম জানিয়েছে, হামলার আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। হামলার সময় জাহাজের ক্রুদের সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ওমান সাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি দাবি করেছে, ইরানের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর জবাবে জর্ডানের আল আজরাক ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানো হয়। হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

এর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।

এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড। এসব জাহাজের ক্রুদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, বন্দরে নোঙর করা কিংবা অবস্থানরত জাহাজগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।

জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করেছে এবং এর মধ্যে ১৮টি সফলভাবে ধ্বংস করেছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও টুকরো যেসব এলাকায় পড়েছে, সেসব স্থান নিরাপদ করতে বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে।

এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হবে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা করবে, ততবার তাদের একটি করে তেলবাহী জাহাজ হারাতে হবে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪