বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ করা হয়েছে। বর্ধিত শয্যায় চিকিৎসাসেবা চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট থাকায় বাড়তি শয্যায় সেবা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রতিবন্ধকতা।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর ফলে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে অনুমোদিত শয্যা অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া না হলে রোগীদের ভোগান্তি পুরোপুরি কমানো সম্ভব হবে না।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে শজিমেক হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ করা এবং বর্ধিত শয্যায় চিকিৎসাসেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে শয্যা বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে ১ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-২ ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধান ও নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও হাসপাতালের পরিচালককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
জনবল সংকটে বাড়ছে চাপ
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ৫০০ শয্যার জনবল দিয়েই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অথচ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। প্রয়োজনের তুলনায় ১৮৭ জনবল সংকট রয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালে সব সময় প্রায় দেড় হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য জনবল ও সরঞ্জামাদি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মুঞ্জুর ই মোর্শেদ বলেন, ‘৫০০ শয্যার চিকিৎসক দিয়েই সেবা কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। ১ হাজার ২০০ শয্যা পরিচালনার ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের তুলনায় ১৮৭ জনবল সংকট রয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য। শয্যা উন্নীতকরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লোকবল ও সরঞ্জামাদি পাওয়া গেলে এই অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার মান বাড়বে।’
উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল। জটিল রোগের চিকিৎসা, জরুরি সেবা ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য এসব জেলার রোগীরা এ হাসপাতালে আসেন।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। বগুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।’
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাড়ছে রোগীর চাপ
সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ভবনে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। কলেজের টিচিং হাসপাতাল হিসেবে তখন মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ব্যবহার করা হতো।
পরে ২০০৬ সালে বগুড়া শহরতলীর ছিলিমপুরে স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণ করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালু করা হয়। রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
২০১৯ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ শয্যার হাসপাতালকে ১ হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে কাগজে-কলমে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত জনবল দিয়ে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
নতুন অনুমোদনের ফলে শজিমেক হাসপাতালে আরও ৬০০ শয্যা যুক্ত হলো। এখন প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে বর্ধিত শয্যায় কার্যকর চিকিৎসাসেবা চালু করাই সংশ্লিষ্টদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ