সিনিয়র রিপোর্টার : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ঐক্যের প্রশ্নে আমাদের কোনো আপস নেই। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আমাদের কোনো আপস নেই। পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনটা চাই।’
মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ : জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে আমরা কখনো আপস করিনি, কোনোদিন করবো না। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদেরকে সেই পথে শিখেছেন, আমাদের নেতা দেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদেরকে সেই পথ দেখিয়েছেন। আর এখন আমাদের তরুণ নেতা জনাব তারেক রহমান দীর্ঘ আট-নয় বছর ধরে আমাদেরকে সেই পথে এগিয়ে নিয়ে এসছেন। যেখান থেকে আমরা আরো শক্তিশাল হয়েছি, আরো আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছর আমাদের অসংখ্য লোক মারা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর অসংখ্য মারা গেছে এবং অন্য রাজনৈতিক দলেরও নেতাকর্মী মারা গেছে। এ সময়ে আমাদের অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে, আমাদের অনেক সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে। আমাদের অনেক স্ত্রী তার স্বামীকে হারিয়েছে। আমাদের অনেক মা তার প্রিয় সন্তানকে হারিয়েছে। আমরা আজকে তাদের কিছু ছেলে মেয়েদেরকে মায়ের ডাক ও অন্যান্য সংগঠনের মাধ্যমে এখানে দেখতে পেয়েছি। আমরা দেখতে পেয়েছি, আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের বাহিনী আমাদের ছোট ছোট শিশুসন্তান থেকে শুরু করে আমাদের ছাত্রদেরকে, আমাদের সন্তানদেরকে করে হত্যা করেছে পাখির মতো।’
তিনি বলেন, ‘দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে আমাদের এই ১৬ বছরে। দেশটাকে একটা ফোকলা রাষ্ট্রে পরিণত করে দেয়া হয়েছে। সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে। ভবিষ্যতকে ধ্বংস করা হয়েছে। নৈতিকতাকে ধ্বংস করা হয়েছে। এবং ভবিষ্যতের একটা ঋণের দেশ এমনভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে যা পরবর্তী সরকারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট পালিয়ে যাওয়ায় একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সেই সুযোগটা কি? একটা নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করবার। আমি জোর দিয়ে চাই, একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে। আমরা পরিবর্তনে বিশ্বাস করি বলেই ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচি নিয়েছিলাম ২২ সালে, তারও আগে ১৬ সালে ভিশন ২০৩০ দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।’
‘রিফর্ম বা সংস্কারের কথা তো আমরা বলেছি আগে। এখন অত্যন্ত সুচতুরভাবে একটা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে যে, বিএনপি সংস্কার মানছে না। আর মানছে না বলেই দেরি হচ্ছে। এটা নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক মিডিয়াতে ক্যাম্পেইন হচ্ছে, যে বিএনপি সংস্কার মানছে না,’ বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি একজনের ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে। আমরা বলেছি যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট, আমরা বলেছি যে আমরা রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হবে। আমরা বলেছি বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে একেবারে ইন্ডিপেন্ডেন্ট করতে হবে। আমরা বলেছি যে সংস্কার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ে আসতে হবে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সংস্কার নিয়ে আসতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করব বলেই তো জনগণের কাছে চলে গেছি সমাবেশ নিয়ে, চ্যালেঞ্জ করব বলেই তো নদী পার হয়ে সরকারের পতন চেয়েছি। ’২২ সালে মিরপুরের একজন ওয়ার্কার মকবুলকে পার্টি অফিসের সামনে গুলি হত্যা করেছে আমার মুখের সামনে। আমি যখন তাকে মর্গে দেখতে চাই, তখন দেখি তার স্ত্রী পরনে একটা ছিড়া শাড়ি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে একটা অভূতপূর্ব একটি সম্ভাবনার সুযোগ আজকে সৃষ্টি হয়েছে। তাদের রক্তফোঁটা যেন কখনো ব্যর্থ না হয়। আসুন, আজকে আমরা সবাই শপথ গ্রহণ করি।’
রিপোর্টার্স ২৪/এমবি