| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি ও পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ইং | ১৮:৩৩:৩৩:অপরাহ্ন  |  ৩১০ বার পঠিত
টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি ও পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর-১-এ বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কোনো সংসদ সদস্য বা পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

সংরক্ষিত সংসদ সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌসী মিষ্টির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি পুলিশকে ব্যবহার করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তে যারাই জড়িত হিসেবে শনাক্ত হবেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনাস্থল থানার কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর ও লুটপাট চলার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার কাছে মনে হয়েছে, এত বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ অল্প সময়ে করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “এটা সময় নিয়েই করা হয়েছে।” ঘটনাস্থলের দুই পাশে থাকা টিনের শেড ভাঙচুরের পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির আলামত পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ভবনের ভেতরে থাকা ল্যাবরেটরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতির কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। এসব যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তার ধারণা।

মামলা হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় এরই মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

নাম উল্লেখ থাকা আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার, সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের কঠোর নির্দেশনা আছে। ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ভাঙচুর ঠেকানো যায়নি এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

পুলিশ আগে থেকে ঘটনা সম্পর্কে জানত কি না, জানার পর সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না এবং পুলিশের কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না সবকিছু তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় এডিসি দারুসসালামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবারের মধ্যেই কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, “আমরা কোনো দল দেখব না, কোনো মত দেখব না। সব সময় দেখব অপরাধীকে। অপরাধী যে, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।”

গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ভাঙচুরের পর সেখানে একটি দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুক্রবার সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, প্রায় ২৫০ জনের একটি মুখোশধারী দল ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে ক্লিনিকে হামলা চালায়। তারা কর্তব্যরত দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশের পর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে ক্লিনিকের দখল নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ডা. নাসরিনের অভিযোগ, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা দেওয়ার রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও পদ্ধতি, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নিয়ে গেছে।

এ ছাড়া একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির সরঞ্জাম ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ কেন্দ্রটির স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। পরে সেখানে ‘সম্মাননা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়।

ডা. নাসরিন বলেন, শুধু যন্ত্রপাতি ও মালামালের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই আনুমানিক দেড় কোটি টাকা।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুর এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুদের টিকাদান সেবা দিয়ে আসছে বলে জানান ডা. নাসরিন।

তিনি বলেন, পরদিন থেকে সরকারি হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রটি ভাঙচুর ও দখলের কারণে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘটনার পর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়, দরিদ্র, শিশু ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকারেও এর প্রভাব পড়েছে।

ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার ও শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪