| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জেলা শহরে চালু হচ্ছে স্কুলবাস

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ইং | ১৩:০৫:৩৪:অপরাহ্ন  |  ২৬৫ বার পঠিত
জেলা শহরে চালু হচ্ছে স্কুলবাস

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন নিশ্চিত করতে দেশের বড় জেলা শহরগুলোতে স্কুলবাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ১ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার ‘বৃহৎ জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণপরিবহনভিত্তিক যাতায়াত ব্যবস্থা’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের সময়কাল আগামী ১ জুলাই থেকে ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ধরা হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে মোটরযান কেনার জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে ১৫৯ কোটি, কম্পিউটার সরঞ্জাম কিনতে ৫১ কোটি, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে ২০ কোটি এবং বিবিধ খাতে ৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় স্কুলবাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি করপোরেশন।

এর আগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা ও সুবিধা যাচাইয়ের জন্য ৩৩ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে বিদ্যমান গণপরিবহন অবকাঠামো, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের চাহিদা, সম্ভাব্য রুট, ব্যস্ততম সময় এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করা হবে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কার্যকর ফল পাওয়া গেলে মূল প্রকল্পটি অনুমোদনের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ইলেকট্রিক স্কুলবাস ব্যবহারের পাশাপাশি নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি, জিপিএস ট্র্যাকিং, স্মার্টকার্ড এবং অনলাইন মনিটরিং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বসবাসের স্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে জিআইএসভিত্তিক রুট নির্ধারণ করা হবে। পিক আওয়ার বিশ্লেষণ করে কোন এলাকায় কত বাস প্রয়োজন এবং কখন সেগুলো চলবে, তাও নির্ধারণ করা হবে।

ব্যাংক ঋণভিত্তিক ব্যবস্থায় ইলেকট্রিক স্কুলবাস সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে। বাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স মডেল তৈরি করা হবে। যানজট কমাতে স্কুলের সময়সূচিতে সমন্বয় বা ‘স্কুল টাইম স্ট্যাগারিং’ করার বিষয়টিও প্রকল্পে রাখা হয়েছে।

মাউশি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় জেলা শহরগুলোতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এখন অনেকাংশে অটোরিকশা, ভ্যান, রিকশা ও অন্যান্য অনিয়ন্ত্রিত পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। এতে একদিকে যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। পরিকল্পিত স্কুলবাস চালু হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি অভিভাবকদের ওপর পরিবহন ব্যয়ের চাপও কমতে পারে।

তবে এ ধরনের উদ্যোগ এর আগেও সফল হয়নি। ২০১০ সালে রাজধানীতে বিআরটিসির স্কুলবাস সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না পাওয়ায় আয়-ব্যয়ের বড় ঘাটতি তৈরি হয়। তৎকালীন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, একটি বাস পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা ব্যয় হলেও গড়ে আয় হতো প্রায় ২০০ টাকা। একপর্যায়ে লোকসানের কারণে সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়।

গত বছরও রাজধানীতে স্কুলবাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল মাউশি। তিনটি রুট চূড়ান্ত করে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছিল। তবে স্কুলগুলোর ক্লাস শুরুর সময় প্রায় একই হওয়ায় যাত্রী পাওয়া নিয়ে সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। রুটিন পরিবর্তনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রাজি না হওয়ায় সেই উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।

মাউশির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান বলেন, রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে স্কুলবাস চালু করা সম্ভব হলেও জেলা শহরে যানজট, সরু রাস্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসংকটের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, ‘বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে কি না, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।’


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪