রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে হৃদরোগেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হৃৎপিণ্ডের কোনো সতর্কসংকেত বা লক্ষণকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষ সচেতন হলেও অনেক সময় সেই সচেতনতা বাস্তব জীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয় না। হৃদরোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের অবহেলা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই হৃৎপিণ্ড থেকে আসা যেকোনো সংকেত বা সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের পরিবর্তন, অস্বস্তি বা সতর্কসংকেত দেখা দিলে সেটিকে সাধারণ বিষয় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। এজন্য হৃদরোগের লক্ষণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু হৃদরোগ নয়, সংক্রামক ও অসংক্রামক—সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তিনি হৃদরোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ এন এম মনোয়ারুল কাদিরসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. এ এফ খবির উদ্দিন আহমেদ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম