| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি ‘যৌতুক’ হিসেবে গণ্য হবে না: হাইকোর্টের রায়

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ইং | ১৭:৪২:১১:অপরাহ্ন  |  ৪৬৬ বার পঠিত
ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি ‘যৌতুক’ হিসেবে গণ্য হবে না: হাইকোর্টের রায়

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিয়ের শর্ত ছাড়া কেবল ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করাকে আইনগতভাবে ‘যৌতুক’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা মামলাকে ‘সাজানো ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে এবং নিম্ন আদালতের দেয়া দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিন নামে এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম আইন অনুযায়ী মো. রাসেল উদ্দিনের সঙ্গে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড এলাকার ভাড়া বাসায় আসামি রাসেল উদ্দিন তার ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় কাঠের লাঠি দিয়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নম্বর-১ ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর মো. রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামি হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন।

হাইকোর্ট মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দুটি প্রধান বিষয় চিহ্নিত করেন:

প্রথমত, যৌতুকের আইনি সংজ্ঞা: ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারা অনুযায়ী, বিয়ের শর্ত বা বিবেচনা হিসেবে বর বা বরপক্ষের দ্বারা কোনো অর্থ বা সম্পত্তি দাবি করাকেই কেবল ‘যৌতুক’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই মামলায় বাদী এবং অন্য সকল সাক্ষী জবানবন্দিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, টাকা দাবি করা হয়েছিল আসামির ব্যবসার উদ্দেশ্যে। ফলে ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা চাওয়ার বিষয়টিকে যৌতুকের সংজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ নেই এবং প্রসিকিউশন পক্ষ যৌতুক দাবির অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, মেডিকেল স্বাক্ষ্যের মারাত্মক বৈপরীত্য: বাদী জবানবন্দিতে দাবি করেন যে লাঠির আঘাতে তার ডান কাঁধ ও পিঠে আঘাত লেগেছে। অন্যদিকে, চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসক এবং হাসপাতালে তৈরি মেডিকেল সনদে দেখা যায় আঘাতটি ছিল বাম কাঁধে। বাদীর মৌখিক সাক্ষ্য এবং ডাক্তারি সনদের মধ্যে আঘাতের স্থানের এই স্পষ্ট বৈপরীত্য শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগকে গুরুতর সন্দেহের মুখে ফেলে দেয়।

উচ্চ আদালত মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও সাজানো হিসেবে উল্লেখ করে কক্সবাজারের ট্রাইব্যুনালের বিচার ও দণ্ডাদেশ বাতিল করেন এবং আসামি মো. রাসেল উদ্দিনকে খালাস প্রদান করেন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪