নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে একটি পোশাক কারখানায় অন্তত ৬ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ইসদাইরের অক্টো অফিস এলাকার নিঝুম সোসাইটির গলি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. সাগর হোসেন।
৩২ বছর বয়সী সাগর ফতুল্লার দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকার শরিফ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন পোশাক ব্যবসায়ী।
সাগর বলেন, রোববার বিকেল আনুমানিক পৌনে চারটার দিকে এক বন্ধুর সঙ্গে নিঝুম সোসাইটির গলি দিয়ে যাওয়ার সময় ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে থাকা বন্ধুকেও অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়া হয়। পরে সাগরকে বিসিকের একটি অফিসের ভেতর ছয় ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
রাতেই নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন বলেও জানান।
অভিযোগে বিসিকের শাসনগাও এলাকার অরুন হাওলাদারের ছেলে মো. রাইসান রোমান (৩২), মো. আতিক ও মাসদাইরের আব্দুস সালামের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫ থেকে ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাগরকে অভিযুক্তরা একটি প্রাইভেট কারে তুলে বিসিকের শাসনগাও এলাকার ‘এম্প্যায়ার কটন’ নামে একটি অফিসের ভেতর আটকে রাখে। পরে সেখানে তাকে লোহার দিয়ে এলোপাথারি মারধর করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে তারা সাগরের মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে ওই মুঠোফোন থেকে তার দুবাই প্রবাসী ভগ্নিপতি হিরু সিকদারকে হোয়াটস অ্যাপে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা দাবি করে।
“অন্যদিকে আমার বন্ধু আমাকে উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনি পদক্ষেপের জন্য তৎপরতা শুরু করে। বন্ধুর এই তৎপরতার টের পেয়ে অভিযুক্তরা রাত আনুমানিক পৌনে দশটার দিকে আমাকে ছেড়ে দেয়। ছাড়ার আগে আমি যদি তাদের দাবি করা টাকা না দেই এবং এ বিষয়ে পুলিশ-প্রশাসনের কাউকে জানাই তাহলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে বলেও হুমকি দেয়,” বলেন ভুক্তভোগী সাগর।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাইসার রোমানের হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করে তার অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। রোমান বলেন, “আপনি একটু কষ্ট করে অফিসে আসেন। সামনা-সামনি কথা বলি। অনেক সময় অনেক কিছু ভুল হতে পারে আমার। সামনা-সামনি কথা বলবো।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহাবুব আলমের সরকারি মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পরে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়টি ওসি স্যার দেখছেন। তিনি পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিবেন।”
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব