| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ইং | ১৩:১১:৩৮:অপরাহ্ন  |  ৬৫৮ বার পঠিত
সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

স্টাফ রিপোর্টার: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উজোবাজারে সাজেক সড়কে অবরোধ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের খাগড়াছড়ি নেয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

বুধবার দুপুরে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথ বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার থেকে সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার সকালে অবরোধকারীরা উজোবাজার এলাকায় সাজেক সড়কে অবস্থান নিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। সকাল সাড়ে ৮টায় সাজেক থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজারে পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সড়ক থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে পাঠানোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূচনা হয়। আন্দোলনকারী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সকালে সাজেক থেকে রওয়ানা হওয়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটকের বহর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কাছাকাছি নিরাপদে পৌঁছে গেছে।

অবরোধকারীরা উজোবাজারে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উজোবাজার ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

বুধবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো সংগঠন দুটির বিবৃতিতে বলা হয়, জেএসএসের (সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের আগের স্থানগুলোতেই রয়েছেন। তারা সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করেছেন।

গ্রামবাসীদের ব্যবহৃত ফোন কেড়ে নিয়েছেন। সাধারণ জুমচাষিরা ভয়ে জুমে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কার করার কাজে যেতে পারছেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লোক দেখানো অভিযান চালালেও জেএসএসের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার্থে এবং জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।

সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে। তবে তিন দফা দাবির সমাধান না হলে আটকে পড়া পর্যটকদের ছেড়ে দেয়া হবে না। তারা সড়কে অবস্থান চালিয়ে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিন অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল। ওই সময়ে প্রশাসন তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের চলে যাওয়ার জন্য সময়ও দেয়া হয়েছিল। তাই ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। তিনি বলেন, এসব ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। দীর্ঘদিন ধরে সাজেকে ইউপিডিএফ যে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও জনগণের ওপর শোষণ-পীড়ন চালাচ্ছে, সেখান থেকে নজর সরাতেই তারা এ কাজ করছে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব (পিপিএম) বলেন, থেমে থেমে গোলাগুলির খবর পেয়েছি৷ তবে সাজেকে ভ্রমণ যাওয়া পর্যটকরা নিরাপদে সাজেক ছেড়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪