| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নভেম্বর থেকে ফের পুরোদমে শুরু হবে স্মার্টকার্ড প্রিন্টিং

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ইং | ১১:৪৮:২৮:পূর্বাহ্ন  |  ৭৫১ বার পঠিত
নভেম্বর থেকে ফের পুরোদমে শুরু হবে স্মার্টকার্ড প্রিন্টিং

স্টাফ রিপোর্টার: ব্ল্যাংক কার্ডের স্বল্পতায় স্থবির হয়ে পড়া উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্টকার্ড প্রিন্টিং কার্যক্রম আবারও শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বর থেকেই পুরোদমে স্মার্টকার্ড ছাপানোর কার্যক্রম শুরু করবে সংস্থাটি।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে মোট ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৮ জনের স্মার্টকার্ড পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৭ কোটি ৩৬ লাখ ৫৪১ জনের কার্ড।

বিতরণের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ১ কোটি ৩৯ লাখ ২ হাজার ৪৫৭ জনের কার্ড। এ ক্ষেত্রে বিতরণের হার ৮৪ দশমিক ০৪ শতাংশ।

দেশে বর্তমানে ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। গত জুন মাস পর্যন্ত তৈরি করা ইসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো স্মার্টকার্ড হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ৪ কোটি ১২ লাখের বেশি ভোটার।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, বরগুনা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সব উপজেলায় স্মার্টকার্ড বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, ৪০৪টি নির্বাচনী থানা/উপজেলার মধ্যে ১১৫টিতে এখনো কার্ড বিতরণ শুরু হয়নি। বাকি এলাকাগুলোতেও বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে প্রথম ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবহার করে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকদের উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০১১ সালে আইডিইএ (স্মার্টকার্ড) প্রকল্প গ্রহণ করে কমিশন।

নানা জটিলতা কাটিয়ে চার বছর পর, ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান অবার্থার টেকনোলজিসের সঙ্গে ১৮ মাসের মেয়াদে ৯ কোটি নাগরিকের জন্য ৯ কোটি স্মার্টকার্ড তৈরির চুক্তি করে ইসি। এরপর ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে মেয়াদ বাড়ানোর পরও ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কার্ড সরবরাহ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। ওই বছরের শেষ দিকে অবার্থারের কাছ থেকে জরিমানাও আদায় করা হয়।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৭ সাল পর্যন্ত অবার্থার কার্ডপ্রতি ১ দশমিক ৫১ ডলার দরে ৭ কোটি ৭৩ লাখ স্মার্টকার্ড সরবরাহ করতে পেরেছিল। তখনই কার্ডের ঘাটতি ছিল ১ কোটি ২৭ লাখ। পরবর্তী সময়ে ভোটারসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৩ কোটিতে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে সব নাগরিককে উন্নতমানের স্মার্টকার্ড দিতে আরও প্রায় ৪ কোটির বেশি ব্ল্যাংক কার্ড প্রয়োজন হবে।

অবার্থারের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) কাছ থেকে স্মার্টকার্ড নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। এদিকে, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে স্মার্টকার্ড প্রকল্পের চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়। এরপর থেকে রাজস্ব খাতের অর্থে প্রকল্পের ব্যয় মেটানো হচ্ছে।

আইডিইএ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর আইডিইএ দ্বিতীয় প্রকল্প গ্রহণ করে কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিএমটিএফের কাছ থেকে ৪০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকায় ৩ কোটি ব্ল্যাংক স্মার্টকার্ড সরবরাহের কথা ছিল।

তবে করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় চুক্তিতে পরিবর্তন আনা হয়। কার্ডপ্রতি ১৩৫ টাকা ৫০ পয়সার পরিবর্তে ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ১৭২ টাকা দরে ২ কোটি ৩৬ লাখ কার্ড কেনার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সে অনুযায়ী, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সম্প্রতি এক কোটিরও বেশি ব্ল্যাংক কার্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি কার্ড সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে।

এ ছাড়া ব্ল্যাংক কার্ডে তথ্য সংযোজন করে স্মার্টকার্ড ছাপানোর মেশিন বিকল হয়ে পড়েছিল। সেই সমস্যারও সমাধান হয়েছে। ফলে শিগগিরই স্মার্টকার্ড প্রিন্টিং কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, পার্সোনালাইজেশন সেন্টার নিয়ে আমাদের একটা সমস্যা ছিল। আমরা আগামী মাস থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় পার্সোনালাইজেশন সেন্টারে স্মার্টকার্ডগুলো প্রিন্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪