| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স ২০২৬:

ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে বাংলাদেশ ৮৪ ও ভারত ১০০ নম্বরে

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ইং | ১৩:২২:৫৬:অপরাহ্ন  |  ২০২ বার পঠিত
ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে বাংলাদেশ ৮৪ ও ভারত ১০০ নম্বরে

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : ২০২৬ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে (গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স বা জিএইচআই) ১২২টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১০০তম। জার্মান সাহায্য সংস্থা 'ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে' (ডব্লিউএইচএইচ) এবং আইরিশ সংস্থা 'কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড', তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অফ পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট (আইএফএইচভি) এবং সুইজারল্যান্ডের সংস্থা হেলভেটাসের যৌথ উদ্যোগে এই সূচকটি প্রকাশিত হয়েছে। ২৪.১ স্কোর নিয়ে ভারত এখনও 'গুরুতর' ক্ষুধা বিভাগের অন্তর্বুক্ত রয়েছে—২০১২ সালের পর থেকে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারেনি দেশ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম। 

১৯.২ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ 'সহনীয়' ক্ষুধা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০১৮ সালের ২০ স্কোর থেকে কিছুটা উন্নতি করে দেশটি এই অবস্থানে পৌঁছেছে। সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে অপুষ্টির হার ৮.২ শতাংশ, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্টান্টিং (উচ্চতা কম থাকা) ২৪ শতাংশ, কৃশতা বা ওয়েস্টিং (উচ্চতার তুলনায় ওজন কম) ১২.৯ শতাংশ এবং শিশুমৃত্যুর হার ৩.০ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের মোট জনসংখ্যার ৯.৮ শতাংশ অপুষ্টির শিকার এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৯.৩ শতাংশের উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম (স্টান্টিং), যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এছাড়া ভারতে শিশুদের কৃশতা বা উচ্চতার তুলনায় ওজন কম হওয়ার (ওয়েস্টিং) হার বেড়ে ১৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। এর আগের সূচকে এই হার ছিল ১৬.৯ শতাংশ। 

২০১৮ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের জিএইচআই স্কোর ২৫.৮ থেকে মাত্র ১.৭ পয়েন্ট কমেছে, যা নির্দেশ করে ক্ষুধা হ্রাসের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর আগে ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে এই অগ্রগতির হার ছিল ৮.২ পয়েন্ট। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের স্কোর ২৩.৫ এবং এখানকার শিশুদের কৃশতাক্রান্ত হওয়ার গড় হার ১৫.৮ শতাংশ, যা বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলের তুলনায় সর্বাধিক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি এখনও আশঙ্কাজনক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলের অনেক দেশেই অগ্রগতি থমকে গেছে। ২০১৮ সালের তুলনায় পাকিস্তানসহ দুটি দেশে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। অন্যদিকে নেপাল অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। 

বিশ্ব, আঞ্চলিক এবং জাতীয় পর্যায়ে ক্ষুধার মাত্রা নিয়মিত পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণ করতে জিএইচআই ব্যবহার করা হয়। চারটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে এই স্কোর নির্ধারণ করা হয়: অপুষ্টি (পর্যাপ্ত ক্যালোরি না পাওয়া জনসংখ্যার হার), চাইল্ড স্টান্টিং (দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টির কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী যেসব শিশুর উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম), চাইল্ড ওয়েস্টিং (তীব্র অপুষ্টির কারণে যেসব শিশুর ওজন উচ্চতার তুলনায় কম) এবং শিশু মৃত্যুর হার (অপর্যাপ্ত পুষ্টি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃত্যুর হার)। পদ্ধতিগত কারণে বিভিন্ন বছরের প্রকাশিত রিপোর্টের স্কোর সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তাই সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে এই বছরের প্রতিবেদনে সর্বাধুনিক তথ্য ও সংশোধিত পদ্ধতি ব্যবহার করে ২০০০, ২০০৬, ২০১২ এবং ২০১৮ সালকে রেফারেন্স বছর হিসেবে ধরে স্কোরগুলি দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সশস্ত্র সংঘাত। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় সংঘাত বর্তমানে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম এক লাফিয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ সস্তা ও কম পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে কিংবা খাবার কম খাচ্ছে, যা অপুষ্টি বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিপ্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ফসলহানি খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলছে। বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক তহবিলের অভাব খাদ্য নিরাপত্তা খাতে খরচকে ২০১৬–২০১৭ সালের স্তরে নামিয়ে এনেছে। এর ফলে জরুরি ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির পরিধি কমাতে বাধ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। অর্থায়নের ঘাটতির কারণে তথ্য সংগ্রহ ব্যাহত হওয়ায় অনেক দেশে অপুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর পরিস্থিতি নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও, ২০১৮ সালের পর থেকে ৩১ টি দেশ তাদের জিএইচআই স্কোর অন্তত ১০ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে। 

আফ্রিকার উগান্ডা ও টোগো এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ২০০০ সালের পর থেকে নেপাল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য প্রতিবেদনে শক্তিশালী হতে থাকা 'এল নিনো' এবং ২০২৬ সালের দুর্বল মৌসুমি বায়ুর সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ভারতের অধিকাংশ বৃষ্টি নির্ভর কৃষিজমি পরিবেষ্টিত 'মনসুন কোর জোন'-এ স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪