| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পার্বত্য চট্টগ্রামে জমি হস্তান্তরের বাধা প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশ

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ইং | ১৫:১৫:১৯:অপরাহ্ন  |  ২৯৯ বার পঠিত
পার্বত্য চট্টগ্রামে জমি হস্তান্তরের বাধা প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশ

সিনিয়র রিপোর্টার:মচট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রবন্দরগুলোর ভৌগোলিক নৈকট্যের বিপুল বাণিজ্যিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) দ্রুত শিল্পায়ন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮৯ সালের পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ৬৪ ধারার বৈষম্যমূলক ও সেকেলে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

রোববার (২৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশটি পাঠান। 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসককে  এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয় যে, ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে তিন পার্বত্য জেলা দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রাম এবং বিশ্বমানের চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রবন্দরগুলোর ঠিক পাশেই অবস্থিত।

আধুনিক অর্থনীতির আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী, প্রধান সমুদ্রবন্দরের সাথে সংযুক্ত অঞ্চলগুলো স্বাভাবিকভাবেই রফতানিমুখী উৎপাদন হাব, লজিস্টিকস সেন্টার, শিল্পাঞ্চল ও গুদামজাতকরণ করিডোরে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ৬৪ ধারায় জেলা পরিষদগুলোর নিরঙ্কুশ ভেটো ক্ষমতার কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের কাছে জমি বিক্রি, লিজ বা হস্তান্তর সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে আছে। জমি বন্দোবস্ত ও হস্তান্তরের এই কৃত্রিম প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতীয় শিল্পপতি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো পাহাড়ে রফতানিমুখী কারখানা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট ও আধুনিক গুদামঘর নির্মাণ করতে পারছে না। ফলে সমুদ্রবন্দরের এত কাছে থেকেও পাহাড়ের জনগণ শিল্পায়নের বিপুল অর্থনৈতিক সুফল থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত রয়েছে।

নোটিশে আরও ব্যাখ্যা করা হয় যে, অবাধে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ না থাকায় পাহাড়ের জমি ‘অচল সম্পদে’ (Dead Capital) পরিণত হয়েছে। জমি মালিকরা ব্যাংকিং ঋণ পাচ্ছেন না এবং তাদের জমির ন্যায্য বাজারমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকার পাহাড়ে সড়ক, বিদ্যুৎ ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেটসহ হাজার হাজার কোটি টাকার অবকাঠামো গড়ে তুললেও জমি হস্তান্তরের নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানে বেসরকারি শিল্প ও পুঁজিনিয়োগের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ। পুরো অঞ্চলটিতে আধুনিক কারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় শিক্ষিত ও কর্মক্ষম তরুণ সমাজ চরম বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে।

নোটিশে অত্যন্ত জোর দিয়ে তুলে ধরা হয় যে, এই তীব্র বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক অসহায়ত্বই পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। জীবিকার বিকল্প পথ না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত পাহাড়ি তরুণরা বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনে জড়িয়ে পড়ছে। সুযোগসন্ধানী সন্ত্রাসী চক্রগুলো এই বেকার যুবকদের নিয়মিতভাবে অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি ও সংঘাতে ব্যবহার করছে, যার ফলে সীমান্তে ও পাহাড়ে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিয়ত সশস্ত্র হামলার শিকার হতে হচ্ছে এবং প্রাণ বিসর্জন দিতে হচ্ছে।

নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, কেবল সামরিক অভিযান, অস্ত্রের শক্তি ও নগদ সরকারি ভাতা দিয়ে পাহাড়ে এই সংঘাত থামানো সম্ভব নয়; জমির হস্তান্তর উন্মুক্ত করে ভারী বেসরকারি শিল্প কারখানা ও আইটি খাত গড়ে তুলে তরুণদের জন্য সম্মানজনক ও স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি করলেই কেবল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর রিক্রুটমেন্টের পথ চিরতরে বন্ধ হবে এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে সাংবিধানিক অধিকারের বিষয় তুলে ধরে বলেন, সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও অবাধে হস্তান্তর বা নিষ্পত্তির পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

এছাড়া সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়লাভ ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, ১৯ অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতা, ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং ৩২ অনুচ্ছেদে মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একই একক প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরে ভৌগোলিক কারণে জমি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পার্বত্য অঞ্চলের নাগরিকদের আধুনিক শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা সরাসরি সংবিধানের লঙ্ঘন।

আইনি নোটিশে আগামী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে ১৯৮৯ সালের তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের ৬৪ ধারার বৈষম্যমূলক ও অন্তরায় সৃষ্টিকারী বিধানসমূহ পর্যালোচনা, সংশোধন বা বাতিল করা, সমুদ্রবন্দরের নৈকট্য কাজে লাগিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দ্রুত শিল্প কারখানা ও রফতানিমুখী অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে যুগোপযোগী শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং দেশের যেকোনো নাগরিকের অনুকূলে জমি রেজিস্ট্রি ও হস্তান্তরের সকল প্রশাসনিক বাধা অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও দেশের সার্বভৌম অখণ্ডতার স্বার্থে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (PIL) দায়ের করা হবে বলে নোটিশে দৃঢ় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪