| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

১০০ মুসলিম চিন্তাবিদের বই নিষিদ্ধের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ইং | ১৯:৫৬:২২:অপরাহ্ন  |  ১০৭৫ বার পঠিত
১০০ মুসলিম চিন্তাবিদের বই নিষিদ্ধের অভিযোগ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: সৌদির মদিনা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে প্রায় ১০০ জন মুসলিম লেখক ও চিন্তাবিদের বই প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি নথিতে এসব লেখকের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

তালিকায় ভারতীয় উপমহাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকের নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী আবদুল্লাহ আল-ওদাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নথিটি প্রকাশ করেন।

তার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তালিকাটি মদিনার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারবিষয়ক বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এতে প্রায় ১০০ জন লেখক ও চিন্তাবিদের নাম রয়েছে, যাদের রচনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আবুল হাসান আলী নদভী, আবুল আ'লা মওদুদী, মালেক বেন্নাবী, ইউসুফ আল-কারদাওয়ি, মুহাম্মদ আল-গাজালি, মুস্তাফা আল-সিবাই, আবদুল ওয়াহহাব খাল্লাফ ও আবদুল আজিজ আল-তারিফী। এ ছাড়া আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও লেখকের নাম রয়েছে।

ঠিক কী কারণে এসব লেখকের বই লাইব্রেরিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তালিকাটির সত্যতা, নিষেধাজ্ঞার পরিধি কিংবা সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

নিষেধাজ্ঞার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন

বিষয়টি সামনে আসার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে নিষেধাজ্ঞার মানদণ্ড নিয়ে। কোন প্রাতিষ্ঠানিক, বুদ্ধিবৃত্তিক কিংবা প্রশাসনিক বিবেচনায় এসব লেখকের রচনা লাইব্রেরিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ক্ষেত্রে প্রতিটি লেখকের সব বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নাকি নির্দিষ্ট কিছু প্রকাশনা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয়। একই সঙ্গে বইগুলো শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে, নাকি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সেগুলো পড়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদদের নাম ঘিরে বিতর্ক

তালিকায় থাকা অনেক লেখকের বই দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক ও ধর্মীয় মহলে আলোচিত। বিশেষ করে আবুল হাসান আলী নদভী ও আবুল আ'লা মওদুদীর রচনা ভারতীয় উপমহাদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে পঠিত ও আলোচিত হয়ে আসছে।

এ ছাড়া তালিকায় থাকা কয়েকজন লেখক তাদের গবেষণা, ধর্মীয় চিন্তাধারা ও সাংস্কৃতিক অবদানের জন্য বিভিন্ন মহলে স্বীকৃতি পেয়েছেন। ফলে তাদের নাম একই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আসায় সিদ্ধান্তটির যৌক্তিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে কোনো লেখকের পাণ্ডিত্যপূর্ণ পরিচিতি কিংবা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তার সব রচনার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন নিশ্চিত করে না। একইভাবে কোনো বইয়ের প্রবেশাধিকার সীমিত করার সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষা ও গবেষণার স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

সমালোচকদের মতে, সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া কোনো লেখকের রচনা শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে রাখা হলে তা ভিন্নমত ও বিকল্প চিন্তাধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ সংকুচিত করতে পারে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতাদর্শের বই পড়া এবং সেগুলো পর্যালোচনার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পাঠ্যক্রম, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা ও বই নির্বাচনের নীতিমালা থাকতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ মানদণ্ড এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষকেরা।

মদিনার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম বিশ্বের একটি পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ততা থাকায় এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: হাওজা নিউজ

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪