| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা, আফিয়া মাসুমার অর্জন এ গ্রেড

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ইং | ১৭:৪৩:৫৬:অপরাহ্ন  |  ৮০৮ বার পঠিত
বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা, আফিয়া মাসুমার অর্জন এ গ্রেড

বেনাপোল প্রতিনিধি: বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে শোকাতুর হৃদয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন বেনাপোলের আফিয়া মাসুমা। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও হাল না ছেড়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সেই শিক্ষার্থী এবার ফলাফলে পেয়েছেন এ গ্রেড। তাঁর এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ গ্রেড অর্জন করেন মাসুমা। তিনি যশোরের শার্শা উপজেলার শার্শা উপজেলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি বেনাপোল পোর্ট থানার নামাজগ্রামে। তিনি প্রয়াত আব্দুস সামাদের ছোট মেয়ে।

মাসুমার বাবা আব্দুস সামাদ (৬৫) বেনাপোলের মেসার্স তাজমহল ট্রান্সপোর্ট ও হাজী মুছা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একজন বিশিষ্ট আমদানিকারক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

পরিবার ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বাড়িতে স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুস সামাদ। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। রাতেই তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। স্বজনেরা যখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন বাবাকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন মাসুমা।

এমন শোকাবহ পরিস্থিতিতেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল বেনাপোল কলেজ। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার দাফনে অংশ নেন মাসুমা। তাঁর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মরদেহ দাফনের সময়ও পিছিয়ে দেওয়া হয়। বাবার মুখ শেষবারের মতো দেখতে না পারার আশঙ্কা থাকলেও পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন তিনি। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও বাবাকে হারানোর গভীর শোক বুকে নিয়েই শেষ করেন।

ফল প্রকাশের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মাসুমা বলেন, বাবা সব সময় চাইতেন তিনি ভালো ফলাফল করুন। পরীক্ষার সময় বাবাকে হারানো ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবেই নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

মাসুমা বলেন, ‘আমি আরও ভালো ফল করতে পারতাম। পরীক্ষার খাতায় লিখতে গিয়ে বারবার বাবার মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। বাবা বেঁচে থাকলে আমার এই ফল দেখে খুব খুশি হতেন।’

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করতে চান মাসুমা। এ জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে প্রয়াত বাবার জন্যও দোয়া কামনা করেছেন।

শার্শা উপজেলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাসানউজ্জামান বলেন, মাসুমা শুরু থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। সে ভালো ফল করবে বলে শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল। পরীক্ষার সময় বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেও সে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কলেজের সম্মান বাড়িয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের এত বড় শোক সামলে এ গ্রেড অর্জন করা তার অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়।

তিনি আরও বলেন, ‘মাসুমার ফলাফলে আমরা সবাই খুশি। বাবার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু না হলে সে জিপিএ-৫ পেতে পারত বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও সে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।’

শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাবাকে হারানো যেকোনো সন্তানের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। সেই শোক নিয়েও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাসুমার ভালো ফল অর্জন আনন্দের সংবাদ।

তিনি জানান, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মাসুমা ও তাঁর পরিবার সহযোগিতা চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা করার চেষ্টা করা হবে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ  


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪