| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আদালত প্রাঙ্গণে বাদীকে মেরে কারাগারে জান্নাতুল জেমি

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৪, ২০২৬ ইং | ২২:০০:০৫:অপরাহ্ন  |  ১০৪২৮ বার পঠিত
আদালত প্রাঙ্গণে বাদীকে মেরে কারাগারে জান্নাতুল জেমি

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে নাশকতা মামলার বাদীকে আদালত প্রাঙ্গণে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জান্নাতুল হুমায়রা ওরফে জেমি নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশ।

পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর কোর্ট ইন্সপেক্টর (ওসি) মো. খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী। 

এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার মো. রাসেল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার নাঙ্গলজোড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

পুলিশ ও আহত ব্যক্তির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মুন্সীনাংলা এলাকায় একটি শিল্পকারখানায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, জান্নাতুল হুমায়রা, মাসুদ, সামিউল ইসলাম ওরফে জাম্বুর, আমিনুর ইসলাম ওরফে ফকির ও আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানাটিতে হামলা চালান। এ সময় ফাঁকা গুলি ছোড়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় ওই দিনই মেলান্দহ থানায় বাদী হয়ে নাশকতার মামলা করেন রাসেল হোসেন।

গতকাল ওই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে রাসেল আদালতের প্রাঙ্গণে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় জান্নাতুল হুমায়রা ও মাসুদের নেতৃত্বে আসামিরা তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা রাসেলের গেঞ্জির কলার ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তিনি আহত হন। 

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জান্নাতুল হুমায়রাকে আটক করেন। এ ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ও বিচারপ্রার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রাসেল হোসেন বলেন, ‘মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গতকাল মামলার শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় পরিকল্পিতভাবে জান্নাতুল হুমায়রা ও মাসুদের নেতৃত্বে আসামিরা আমার ওপর হামলা চালান। তারা আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। মাথায়ও আঘাত করেন। মারধরের সময় মামলা তুলে না নিলে হত্যার হুমকিও দেন তারা।’

জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রিশাদ রেজওয়ান বাবু বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণ বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত জায়গা হওয়ার কথা। সেখানে একজন মামলার বাদীকে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। আদালত প্রাঙ্গণে এ ধরনের ঘটনা শুধু বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করে না, বরং বিচারব্যবস্থার পরিবেশ ও আদালতের মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। 

ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে, যাতে কোনো বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী কিংবা সাধারণ মানুষ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার না হন।’

জামালপুর কোর্ট ইন্সপেক্টর (ওসি) মো. খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ওই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল গতকাল। শুনানি শেষে ওই নারীসহ কয়েকজন আসামি মামলার বাদীকে মারধর করেন। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালতের নির্দেশে ওই নারীকে আটক করে বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি নিজেই আদালতে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪