| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ফ্রান্সে আবারও রাজপথে লাখো মানুষ, অস্থিরতা সামাল দিতে মরিয়া ম্যাক্রোঁ

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৫, ২০২৬ ইং | ২২:২৭:২৫:অপরাহ্ন  |  ৫৩৫ বার পঠিত
ফ্রান্সে আবারও রাজপথে লাখো মানুষ, অস্থিরতা সামাল দিতে মরিয়া ম্যাক্রোঁ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবা ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে ফ্রান্সে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন খাতের শ্রমিকেরা।

নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র পাঁচ মাস আগে এই আন্দোলন তাঁর সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

বামপন্থি শ্রমিক সংগঠন সিজিটিসহ কয়েকটি ট্রেড ইউনিয়ন এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোরও সমর্থন রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সরকারি পরিষেবার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংকট সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সিজিটির প্রধান সোফি বেনে এলসিআই টেলিভিশনকে বলেন, রাজপথে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, ফ্রান্সের ২৬০টি শহর ও নগরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী প্যারিসে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। আন্দোলনকারীরা রাস্তায় ময়লার পাত্র রেখে যান চলাচলে বাধা দেন। পরে মার্সেই, লিওঁ ও নঁতে শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় মূল সমাবেশ শুরুর কথা ছিল।

লিওঁতে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনকে মুখে মাস্ক ও চোখে সুরক্ষাচশমা পরতে দেখা যায়। পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের আশঙ্কায় তাঁরা আগাম সতর্কতা হিসেবে এসব সরঞ্জাম সঙ্গে রেখেছিলেন।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি সরকার।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবরের দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। ওই ঘটনায় সংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়।

রীণ গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, প্যারিসের বাইরে বিভিন্ন বিক্ষোভে পাঁচ থেকে সাত লাখ মানুষ অংশ নিতে পারেন।

ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। তবে পরিবহনব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন দেখা যায়নি।

ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ধারণা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষক বৃহস্পতিবারের ধর্মঘটে অংশ নেবেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এসব বিষয় তাঁদের আন্দোলনে নামতে উৎসাহিত করেছে।

প্যারিসের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইরমা দ্য বানভিল বলেন, যতটা সম্ভব আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তবে পুলিশের সহিংসতার আশঙ্কায় অনেকেই বিক্ষোভে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন।

এদিকে ফরাসি সরকার পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভের আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। এতে তরুণদের ভবিষ্যৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে আসে।

ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের লক্ষ্য হলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং যতটা সম্ভব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সংকটের আগের সময়ের তুলনায় চলতি সপ্তাহে অবরুদ্ধ উচ্চবিদ্যালয়ের সংখ্যা কমেছে। গত ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভও মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ছিল। যদিও কিছু এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

তবে নির্বাচন সামনে রেখে ফ্রান্সের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে জীবনযাত্রার মান ও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে বিরোধী দলগুলো।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪