| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়, ভারত-পাকিস্তানের ওপর কী প্রভাব পড়বে

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৫, ২০২৬ ইং | ১১:০৮:৫১:পূর্বাহ্ন  |  ২২১৫ বার পঠিত
মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়, ভারত-পাকিস্তানের ওপর কী প্রভাব পড়বে

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ায় নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন সব ক্ষেত্রেই বাড়তে পারে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের বাধা ও নজরদারি।

মার্কিন রাজনীতির এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ ভারত ও পাকিস্তানের ওপরও। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বাণিজ্য চুক্তি, এইচ-১বি ভিসা নীতি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ভারতের জন্য কিছু ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের করা বিভিন্ন চুক্তি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের তদন্ত ও নজরদারির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্রাম্প ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকলেও কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তার আইন প্রণয়ন ও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথ কঠিন করে তুলতে পারে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ইতোমধ্যে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি এবং তার পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্কেও তৈরি হতে পারে নতুন সমীকরণ।

ভারতের সামনে বাণিজ্য চুক্তিতে নতুন সুযোগ?

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিকভাবে নিজের সমর্থকদের কাছে কিছু সাফল্য তুলে ধরতে চাইবেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, ভারতও এই পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে দেখতে পারে। কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমাধান আসেনি।

ভারতের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, চীন ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও সুবিধাজনক শুল্ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তবে এ আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি। বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় ভারতসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে তদন্তও চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এসব দেশ কৌশলগতভাবে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করে মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি করছে কি না। ফলে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়লে ভারতের আলোচকরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থান পেতে পারেন। বিশেষ করে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনায় নয়াদিল্লির ওপর চাপ কমতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, দুই দেশের বাণিজ্যিক বিরোধ ও অন্যান্য মতপার্থক্য সহজেই মিটে যাবে।

এদিকে, ট্রাম্প নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অব্যাহত রাখতে পারবেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলেও তারা সরাসরি প্রেসিডেন্টের সব শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারবেন না। তবে শুল্কনীতির কারণে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তারা কী ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তা নিয়ে তদন্ত ও আলোচনা চালিয়ে প্রশাসনের ওপর নীতিগত পরিবর্তনের চাপ তৈরি করতে পারবেন।

এইচ-১বি ভিসায় ভারতীয়দের জন্য কি আসবে স্বস্তি?

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতিও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য চালু থাকা এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ভারতীয় পেশাজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

প্রশাসন এই ভিসার জন্য ১ লাখ ডলারের ফি নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের এইচ-১বি ভিসার আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীদের ওপর। কারণ, অনুমোদিত এইচ-১বি ভিসার প্রায় চার ভাগের তিন ভাগই ভারতীয় নাগরিকদের দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতেও ভারতীয় কর্মীদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অভিবাসননীতির সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের অনেকে। কংগ্রেসে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ সীমিত করার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আরও আলোচনা ও তদন্ত হতে পারে।

বিশেষ করে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে বাধার কারণে কী ধরনের সমস্যায় পড়ছে, তা গুরুত্ব পেতে পারে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে ভিসানীতিতে পরিবর্তন না এলেও দীর্ঘ মেয়াদে ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় ভারতের জন্য সব দিক থেকে ইতিবাচক হবে, এমনটা নয়। দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে তারা আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন।

এ কারণে ভারতের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ বাড়তে পারে। ফলে বাণিজ্য ও অভিবাসন ইস্যুতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্য ক্ষেত্রগুলোতে নতুন করে টানাপড়েন দেখা দিতে পারে।

পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠদের চুক্তি কি তদন্তের মুখে?

ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। গত দেড় বছরে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামাবাদ। এর মধ্যে ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাও রয়েছে।

এসব চুক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যানশিয়ালের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের সমঝোতা স্মারক। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

এ ছাড়া চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পাওয়ারাসের সঙ্গে চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন ব্যবস্থার বিষয়ে চুক্তি করে পাকিস্তান। এসব উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ট্রাম্পও তাকে ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলে অভিহিত করেছেন।

গত সেপ্টেম্বরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ উন্নয়নে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালসের সঙ্গে ৫০ কোটি ডলারের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে পাকিস্তান। পাশাপাশি নিউইয়র্কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রুজভেল্ট হোটেল সংস্কারের বিষয়েও একটি চুক্তি রয়েছে।

তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় এসব চুক্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, শেয়ার লেনদেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা তদন্তের আওতায় আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা।

ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের ব্যবসায়িক লেনদেনও বাড়তি নজরদারির মুখে পড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের করা ব্যবসায়িক ও প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোও তদন্তের আলোচনায় আসতে পারে। চুক্তিগুলোর স্বচ্ছতা, আর্থিক স্বার্থ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অস্বস্তিতে পড়তে পারে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের জন্যও এটি নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ভারত-পাকিস্তানের জন্য ওয়াশিংটনে দুই ধরনের সমীকরণ

মার্কিন কংগ্রেসে ক্ষমতার পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের জন্য ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

ভারতের ক্ষেত্রে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত নিয়ে দর-কষাকষির সুযোগ, এইচ-১বি ভিসা নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে আলোচনার জায়গা তৈরি করতে পারে। তবে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান নয়াদিল্লির জন্য বাড়তি কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য বড় উদ্বেগের জায়গা হতে পারে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে গড়ে ওঠা ব্যবসায়িক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক। এসব চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তের আওতায় এলে ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ শুধু ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে কংগ্রেসের তদন্ত, প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ আলোচনার ওপর।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪