| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কাশ্মীরে বিলুপ্তির পথে ‘লাল সোনা’ খ্যাত জাফরান

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৬, ২০২৬ ইং | ১৯:৩৪:১০:অপরাহ্ন  |  ৬৪৪ বার পঠিত
কাশ্মীরে বিলুপ্তির পথে ‘লাল সোনা’ খ্যাত জাফরান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলাগুলোর একটি জাফরান। গাঢ় লাল রং ও অনন্য সুগন্ধের কারণে কাশ্মীরে এটি পরিচিত ‘লাল সোনা’ নামে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, কৃষিজমি কমে যাওয়া এবং ভেজাল জাফরানের দাপটে ঐতিহ্যবাহী এই মসলা চাষ এখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের কাশ্মীরের পাম্পোর অঞ্চল কয়েক শতাব্দী ধরে জাফরান চাষের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে জাফরানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে কাশ্মীর ও জম্মুতে জাফরান উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৮ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬ টনে।

চাষিদের ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের স্বাভাবিক ধরন বদলে গেছে। বিশেষ করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে জাফরানের ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ ছাড়া সড়ক নির্মাণ, আবাসন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠায় দিন দিন কমছে জাফরান চাষের জমি। ইঁদুর ও সজারুর আক্রমণেও মাটির নিচে থাকা জাফরানের কন্দ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জাফান চাষের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে ভেজাল পণ্যের বাজার। ইরান থেকে আমদানি করা জাফরান অনেক সময় কাশ্মীরি জাফরান হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকৃত জাফরানের সঙ্গে অন্য মসলা ও ক্ষতিকর রং মেশানোর অভিযোগও রয়েছে। এতে বাজারে আসল জাফরানের পরিচিতি ও মূল্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক লোকসানে পড়ছেন স্থানীয় চাষিরা।

জাফরান উৎপাদন বেশ শ্রমসাধ্য। এক কেজি জাফরান সংগ্রহ করতে প্রয়োজন হয় হাজার হাজার ফুল। প্রতিটি ফুল থেকে মাত্র তিনটি লাল গর্ভদণ্ড হাতে সংগ্রহ করে শুকিয়ে তৈরি করা হয় এই মূল্যবান মসলা। এ দীর্ঘ ও শ্রমনির্ভর প্রক্রিয়ার কারণেই বিশ্ববাজারে জাফরানের দাম এত বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত সেচব্যবস্থা চালু, জাফান চাষের জমি সংরক্ষণ, উন্নত জাতের কন্দ ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষের উদ্যোগ নিলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। তবে এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কাশ্মীরের জাফরান চাষ আরও সংকুচিত হতে পারে।

চাষিদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই মূল্যবান মসলার উৎপাদনই শুধু কমবে না, হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে কাশ্মীরের কয়েক শতাব্দীর কৃষি ঐতিহ্যও।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪